10

ভালোবাসা এতো অদ্ভুতও হয় ৯

দোলন-- আরে ও তো কোয়েল,, চিন্তে পারছো না (ভ্রু কুঁচকে)

অনু-- অবস্য, চিনবে কিভাবে,, এই রুপে তো আর তুমি ওকে দেখোনি,,

আরিয়ান-- তুমি কোয়েল (বিশ্ময় নিয়ে)

কোয়েল-- জিই,, (হেঁসে উঠে)

আকাশ-- আসলে তোমাকে তো আর বিনা মাস্কে দেখিনি তাই মিস আন্ডারশ্যান্টিং হয়ে গেছে,,

কোয়েল-- কোনো ব্যাপার না,, চলুন তাহলে,,

আরিয়ান-- হ্যা চলো,,

-- ওরা সাত জনেই এসে চেয়ারের বসে পড়লো,,

আকাশ-- এই আরিয়ান এই মেয়ে মানে কোয়েল কে না আমার কেমন চেনা চেনা লাগছে,, কোথায় যেনো দেখেছি,,

আরিয়ান-- তোর স্বপ্নে হয়তো,,

আকাশ-- মজা করিস না,, সত্যিই আমার মনে হচ্ছে ওকে এর আগেও আমি কোথায় যেনো দেখেছি,,

অর্ক-- এই তোরা চুপ কর,, এইসব কথা পড়ে বলিস,,

______________________

লিজা-- শুভ্র বেইবি,, ক্লোজ ইওর আইস বেইবি,,

শুভ্র-- বাট হুয়াই,, (লিজার কোমড়ে হাত দিয়ে)

লিজা-- একটা সারপ্রাইজ আছে,, প্লিজ প্লিজ প্লিজ বেইবি,,

শুভ্র-- ওকে,,

-- শুভ্র চোখ বন্ধ করতেই লিজা শুভ্রর দুই গাল  ধরে নিজের মুখ শুভ্রর মুখের কাছে এগিয়ে নিয়ে গেলো,, এখন শুভ্র আর লিজার ঠোঁট ছুঁই ছুঁই,, কিন্তু ঠোঁট স্পর্শ করার আগেই কেউ চিল্লিয়ে উঠলো,,

কোয়েল-- আআআআআ,, (উল্টো দিকে ঘুরে) স্যরি স্যরি স্যরি,, আসলে আমি বুঝতে পারিনি স্যরি,,

-- কোয়েলের শাড়ির কুচি লুজ হয়ে যাওয়ায় সেটা ঠিক করতে কোয়েল একটা ফাঁকা ঘরে এসেছিল,, আর এসেই শুভ্র আর লিজাকে এতোটা কাছাকাছি দেখে থ হয়ে যায়,, আর চিৎকার করে ফেলে,, কোয়েলের চিৎকারে শুভ্র চোখ খুলে তাকিয়ে লিজাকে নিজের এতো কাছে দেখে সরে যায়,, আর লিজা সে তো রেগে আগুন,,

লিজা-- হেই,, স্টুপিড গার্ল এখানে কি করছো তুমি,,

--ভয়ে কোয়েলের অবস্থা খারাপ,, এক্সামের দিনের ঘটনা এখনো মাঝে মাঝে মাথা চারা দিয়ে ওঠে ওর,, তাই তো সবসময় সতর্ক থাকে,,

লিজা-- এই মেয়ে কি হলো কথা বলছো না কেনো,,

কোয়েল--,,,,,,,,

শুভ্র-- এই মেয়ে,, এইদিকে ঘোর,, (ধমক দিয়ে)

--‌শুভ্রর ধমকে কোয়েল কেঁপে উঠে যেই দৌড়ে পালাতে যাবে অমনিই,, শুভ্র এসে ওর হাত ধরে হ্যাচকা টান দেয় যার ফলে কোয়েল এসে শুভ্রর বুকে এসে পড়ে,, টানার ফলে কোয়েলের সামনের চুল গুলো পুরো ওর মুখে এসে পড়ে,, যার ফলে চেহারা দেখা যাচ্ছে না,, শুভ্র কোয়েলের এক হাত মুচড়ে পিছনে এনে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে,, এটা দেখে লিজা রাগে গজগজ করতে থাকে,, কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারে না,, সেদিন কার কথা মনে পড়ে যায়,, সামান্য গালে কিস করাতে শুভ্র চড় মেরে লিজার ঠোঁট কেঁটে দিয়েছিল,, সেদিনের কথাটা মনে পড়তেই লিজা ভয়ে ওখান থেকে কেটে পড়ে,, কোয়েল আস্তে আস্তে নিজের মুখ তুলে তাকায় শুভ্রর দিকে,, নিজেকে শুভ্রর কাছ থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতেই মুখের উপর পড়ে থাকা চুল গুলো মুখ থেকে সরে যায়,, কোয়েলের চেহারা শুভ্রর সামনে উন্মুক্ত হতেই শুভ্র চোখ বড়বড় করে কোয়েলের দিকে তাকিয়ে থাকে,, শুভ্র কোয়েল কে দেখায় ব্যাস্ত আর কোয়েল নিজেকে ছাড়াতে ব্যাস্ত,, কোয়েল যতো নিজেকে ছাড়াতে চাইছে শুভ্র ততো ওকে চেপে ধরছে,, একে তো শুভ্রর এতো কাছে তারওপর এক বছর আগের সেই দিন টা,, শেষে আর না পেরে কোয়েল নিজের জুতো দিয়ে শুভ্র পায়ে লাথি মেরে দেয়,, যার ফলে শুভ্রর হাত ঢিলা হয়ে যায়,, এই সুযোগে কোয়েল শুভ্রকে ধাক্কা দিয়ে হল ঘর থেকে পালিয়ে যায়,, আর শুভ্রও ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে বলে,,

শুভ্র-- পাখি তাহলে নিজেই ধরা দিয়েছে,, আমাকে আর কষ্ট করে খুঁজতে হবে না,, একবার যখন পেয়ে গেছি তোমাকে তখন আর তোমাকে ছাড়ছি না,, এইবার তোমাকে আমার হতেই হবে,, সেটা তুমি চাও বা না চাও,, যেটা আমার সেটা শুধুই আমার,, তুমি নিজে থেকে ধরা দিলে ভালো নয়তো জোর করে নিজের করতে আমার কোন আপত্তি নেই,, (বাঁকা হেঁসে)

-- কথাটা বলেই শুভ্র একজন কে ফোন করে কিছু বললো,, ওপাশের উত্তর শুনে শুভ্র বাঁকা হাঁসলো,, ফোন কেটে দিয়ে বললো

শুভ্র-- অনেক হয়েছে এই লুকোচুরি আর নয়,, এবার যে ভাবেই হোক তোমাকে নিজের করতেই হবে,, সাড়ে চার বছরের তৃষ্ণার্ত হৃদয় কে শান্ত করার জন্য তোমাকে যে আমার হতেই হবে,,

______________________

দোলন-- কি রে কোয়েল এতোক্ষণ কি করছিলিস,,

অনু-- সেই কখন গিয়েছিলিস,,

কোয়েল--,,,,,,,,,,

চাঁপা--  কি রে কথা বলছিস না কেন,,

কোয়েল-- আআমি বাড়ি যাবো,,

অনু-- কিহ,, হঠাৎ তোর আবার কি হলো,

দোলন-- এই কোয়েল শরীর খারাপ করছে নাকি তোর,,

কোয়েল-- আরে না না,, আমি ঠিক আছি আসলে ভালো লাগছে না কিছু তাই বাড়ি যাবো,, আর কালকে মধুপুর যাচ্ছি 

চাঁপা-- কিহ তুই মধুপুর যাচ্ছিস,, কোই আমাদের তো বলিস নি,

কোয়েল-- আরে,, আমাকে তো কালকে রাত্রে বাপি বললো,, যেহেতু আমার এক্সাম হয়ে গেছে,, আর বাপির স্কুল ও বন্ধ তাই আরকি কিছুদিন ঘুরে আছি,, আর তোদের বলতে মনেই ছিল না,,

অনু-- কতো দিনের জন্য যাচ্ছিস ওখানে,,

কোয়েল-- প্রায় দশ দিন,,

দোলন+চাঁপা+অনু-- কিহ্হ্হ্ দশ দিন,,

দোলন--তারমানে এই দশদিন আমাদের একা কলেজ আসতে হবে,,

চাঁপা-- তুই ছাড়া কলেজ আসতে ভালো লাগে না আমাদের,,

কোয়েল-- আরে বাবা দশ দিনেরই তো ব্যাপার,, দেখতে দেখতে চলে যাবে,,

অনু-- তুই ছাড়া কলেজে মন বসবে না,,

কোয়েল-- একটু একজেস্ট করে নে প্লিজ,, গত তিন বছরে আমি মধুপুরে যায় না,, এবার সমস্ত ঝামেলা শেষ হয়েছে,, তাই কিছুদিনের জন্য ঘুরে আসি,,

দোলন-- আচ্ছা ঠিক আছে,,

কোয়েল-- এখন বাড়ি চল নাহলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাবে,, আমি এখনো ব্যাগ প্যাকিং করি নি,, বিকেল 8:22 এ ট্রেন আছে,, আর এখন বাজে 5:02 বাড়ি ফিরতে 7 টা পার হয়ে যাবে,, আবার প্যাকিং ও করতে হবে,,

অনু-- আচ্ছা চল,,

দোলন- হুম চল,,

চাঁপা-- আচ্ছা আমি তাহলে আরিয়ান কে ম্যাসেজ করে বলে দিচ্ছি,, অর্ক দা আর আকাশ দাও ওর সাথেই আছে মনে হয়,,

দোলন-- হ্যা হ্যা তাই কর এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে,, 5:16 টে বর্ধমান যাওয়ার ট্রেন আছে, এখানেই দেরি করে ফেললাম,, চল চল বাড়ি যায়,,

-- চাঁপা নিজের ফোন বের করে ম্যাসেজে বলে দিলো ওরা বাড়ি ফিরছে,,

_________________________

আকাশ-- দেখ শুভ্র তোর কথা মতো ব্ল্যাক শাড়ি পরিহিত মেয়ে আজকে কলেজে অনেকেই এসেছে তাদের মধ্যে কিভাবে ওই মেয়েকে খুজে পাবো,

অর্ক-- আচ্ছা কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ এ দেখ না তাহলেই তো হয়ে যায়,,

শুভ্র-- হল রুমে সিসিটিভি ফুটেজ নেই,, দুইদিন নষ্ট হয়ে গিয়েছে,,

আরিয়ান-- তাহলে এখন কি করবি,,

শুভ্র-- আজকে অনুষ্ঠানে কি কোন বাইরের কেউ ইনভাইট ছিল,,

আকাশ-- ইনভাইট বলতে,, শুভেন্দু আঙ্কেল উনি যেহেতু এই কলেজের ওনার তাই উনিই এসেছিল,, আর কেউ বাইরের ছিল না,,

শুভ্র-- তারমানে ও এই কলেজেরই স্টুডেন্ট,, উফফফ,, ও এই কলেজেই,, আমার চোখের সামনে ছিল,, আর আমি এতোদিন জানতেও পারি নি,, (মাথা চেপে ধরে) 

-- শুভ্র ফোন বের করে কাকে যেন ফোন করে বললো

শুভ্র-- কালকের মধ্যে আমার এই কলেজের সকল ফিমেল স্টুডেন্ট দের ইনফরমেশন চাই,,

আকাশ-- শুভ্র পাগল হয়ে গিয়েছিস তুই,, এই কলেছে কম করে হলেও আট হাজার ফিমেল পড়ছে,, তুই তো ওর নাম টাও জানিস না,, আট হাজার স্টুডেন্ট দের মধ্যে কি ভাবে খুঁজে পাবি ওকে,,

শুভ্র-- পুরো কলেজে ভালো ভাবে খোঁজ কর,, যে কালকে কালো শাড়ি পড়ে কে কে এসেছিল কলেজে বুঝেছিস,,

ফোনের ওপাশে--,,,,,,,,,,

শুভ্র-- কালকের মধ্যেই আমার সব ইনফরমেশন চাই, as soon as possible,, 

আকাশ-- ছেলেটা পাগল হয়ে গেছে,,

অর্ক-- কি আর করার,,

আরিয়ান-- আচ্ছা শুভ্রর কাছে কি ওই মেয়েটার ফটো আছে,,

আকাশ-- ফটো নেই তবে শুভ্রর ঘরে ওই মেয়েটার অনেক স্কেচ দেখেছি,, যা শুভ্র নিজের হাতে করেছে,

আরিয়ান-- শুভ্র ওই মেয়েটার কি কোন ছবি তোর কাছে আছে,,

শুভ্র-- হুম আছে,, কেনো বল তো,,

আরিয়ান-- তাহলে পোস্টার ছাপিয়ে দে,, ওই মেয়ের,,

শুভ্র-- গ্ৰেট,,

আরিয়ান-- দেখ আমি আর অর্ক ১০ দিনের জন্য কানাডা যাচ্ছি বাবার বিজনেসের জন্য,, আর আকাশ ও আসবে না ১০ দিন,, তাই যা করার তোকেই করতে হবে

শুভ্র-- ডোন্ট ওয়ারি আমি একাই আমার মায়াপরি কে খুজে নেব,,

______________________ 

১০ দিন পর, গত কালকে কোয়েল রা সবাই বাড়ি ফিরেছে,  আর আজকে কোয়েল কলেজে যাচ্ছে,, আজকে আর কোয়েল মুখে স্কার্ফ জড়ায়নি,, কোয়েল কলেজ ব্যাগ টা নিজের কাঁধে তুলে যেই ঘর থেকে বেরোতে যাবে অমনিই,, দোলন+চাঁপা+অনু তিন জনেই হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়লো,,

কোয়েল-- কিরে তোরা এইভাবে এখানে,, আর অনু তুই হঠাৎ,,

দোলন-- ওইসব কথা ছাড় আগে তুই বল তুই কি আজকে এইভাবেই যাবি,,

কোয়েল-- হ্যা,, বাপি তো বলেই দিয়েছে,, এখন থেকে আর আমাকে বহুরূপী সেজে থাকতে হবে না,,

চাঁপা-- বাঁচতে চাস তো এখনিই মুখ ঢেকে চল,,

কোয়েল-- কি যাতা বলছিস,, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না,,

অনু-- আমি বলছি তোকে,, তুই তো এই দশ দিন কলেজ যাসনি,, অবস্য আমরাও গিয়েছিলাম না,, তিন দিন আগে আমি কলেজে এসেছিলাম কিছু কাজে,, তখনি শুনতে পেলাম,, শুভ্র দা তোকে হন্যে হয়ে খুঁজছে,,

কোয়েল-- কিহ্ ও আমাকে কেনো খুঁজতে যাবে,,

অনু-- আরে শুভ্র দা গোটা ক্যাম্পাসে তোর ছবি টাঙিয়ে বলেছে,, কেও যদি তোকে খুঁজে পায় সে যেনো শুভ্র দা কে ইনফর্ম করে,,

কোয়েল-- কিন্তু হঠাৎ আমাকে কেনো!

দোলন-- আমার মন বলছে,, অনুষ্ঠানের দিন তুই ওনার পায়ে লাথি দিয়েছিলিস,, তারই রিভেঞ্জ নেওয়ার জন্য,,

কোয়েল-- আকাশ দা রা তো আমাকে দেখেছে,, ওরা শুভ্রকে বলেনি,, 

চাঁপা-- আরে ওরা তো কানাডায় আছে,, তাই এইসব কিছু ওরা যানে না,,, আর আমি প্রিন্সিপাল কে বলে পোস্টার গুলো সরিয়ে ফেলেছি,,

-- ওদের কথায় কোয়েল ঘামতে শুরু করে,, ওই সেই এক্সামের দিন কার কথা মনে পড়ে গেল,, কোয়েল কে ভয় পেতে দেখে দোলন রা ওকে সাহস দিয়ে বললো

দোলন-- ডোন্ট ওয়ারি কোয়েল আমরা আছি তো,, সব ঠিক হয়ে যাবে,, তুই মাস্ক টা পড়েনে,,

কোয়েল-- বাইরে গিয়ে পড়বো,, এখানে পড়লে হাজার টা প্রশ্ন করবে

অনু-- আচ্ছা তাই করিস,, চল এখন,,

-- ওরা চার জনেই বেরিয়ে গেল কলেজের উদ্দেশ্যে

____________________

একটার পর একটা জিনিষ এদিক ওদিক ছুঁড়ে ফেলছে শুভ্র,, তাতেও ওর রাগ কমছে না,, শুভ্রর সামনেই ১০ জন মত ছেলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে,,

শুভ্র-- সব কটা অপদার্থ,, কেও কোনো কাজের না,, ১০ দিন হয়ে গেল দাও কোনো খোঁজ পেলিনা তোরা,, একটা বাচ্চা মেয়েকে তোরা খুঁজে পেলি না,, মন তো চাইছে  (গান হাতে নিয়ে) সব কয়টাকে এখানেই  শুট করে দিই,,

ছেলে-- স্যার আমরা অনেক খুঁজেছি,, কিন্তু ম্যাম কে খুঁজে পাইনি,, আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি,, খুব শিগগিরই ম্যাম কে খুঁজে পেয়ে যাবো,,

শুভ্র-- এই তোদের খুঁজে পাওয়ার নমুনা,, যা আমার চোখের সামনে থেকে দূর হ,,

-- ছেলে গুলো ওখান থেকে বেরিয়ে গেলো,,

শুভ্র-- অনেক হয়েছে আর নয়,, এবার আমাকেই যা করার করতে হবে,, অনেক পালিয়েছিস তুই,, আর তোকে পালাতে দেবো না,, একবার শুধু পেয়ে নিই তোকে,, তারপর, (বাঁকা হেঁসে)

ক্রমশঃ

আমার গল্প হয়তো অনেক জায়গায় বানান‌ ভুল আছে,, আবার এক লেখার জায়গায় উল্টো

লেখাও আছে,, দয়া করে কেও কিছু মনে করবেন না,, টাইপিং মিসটেক এর জন্য হয়েছে, আমি গল্প লেখার পরে আর রিচেক করি না,,

Write a comment ...

Write a comment ...