08

ভালোবাসা এতো অদ্ভুতও হয় ৭

দেখতে দেখতে আরো আড়াই মাস পার হয়ে গেল,, খুব সুন্দর করে এই আড়াই মাস পার হয়ে যায়,, এই আড়াই মাসে কোয়েলের সাথে লিজা আর কোনো রকম ঝামেলা করেনি,, কিন্তু শুভ্রর সাথে কোয়েলের দেখা হলেই শুভ্র বাঁকা হাঁসি দিয়ে চলে যায়,, কোয়েল অতো পাত্তা দেয়নি ব্যাপারটা নিয়ে, দোলনের সাথে অর্কর এখন রিলেশনে আছে,, কিন্তু চাঁপা এখনো এক্সেপ্ট করেনি আরিয়ান কে,, আরিয়ান ও হাল ছাড়েনি,, আজকে ওদের ফ্রাস্ট সেমিস্টারের এক্সাম,,ওরা নিজের নিজের সিট অনুযায়ী বসে পড়ে,, আর কিছুক্ষণ পরেই এক্সাম শুরু হবে,,

অনু-- এই কোয়েল তো প্রিপারেশন কেমন,,

কোয়েল-- মোটামুটি,, আর তোদের,,

অনু-- আমার ও মোটামুটি

দোলন-- আমারও মোটামুটিই রে,,

চাঁপা-- আমার না খুব ভয় করছে,,

কোয়েল-- হঠাৎ ভয় কেনো লাগছে তোর,,

চাঁপা-- কেনো যানি না,, মনটা খুব কু গাইছে,,

কোয়েল-- আরে কিছু হবে না,, বেশি টেনশন নিস না,,

--ওদের কথার মাঝেই স্যার চলে আসে,,আর ১৫ মিনিট পরেই এক্সাম শুরু হবে তাই,,ওদের এক্সাম সিট দিতে থাকে,, সবাই কে দিলেও কোয়েল কে দেয়না,, তা দেখে,, কোয়েল উঠে দাঁড়িয়ে স্যার কে বলে,,

কোয়েল-- স্যার আমার সিট টা তো পেলাম না,,

-- কোয়েলের কথায় স্যার মাথা নিচু করে ফেলে,, সত্যিটা বলতে স্যার এর ও খারাপ লাগছে,, স্যার অনেকটাই কোয়েল কে চেনে,, পড়াশোনার ক্ষেতে সব সময় এগিয়ে থাকে,, তাও নিজেকে ধাতস্থ করে বললো বলে,,

স্যার-- তোমার এক্সাম ক্যান্সেল করা হয়েছে কোয়েল,,

--স্যারের কথা শুনে কোয়েল আৎকে উঠে সাথে অনুরাও,,

কোয়েল-- কি বলছেন স্যার,, আমি তো এক্সাম ফর্ম ও জমা দিয়েছি,, আমার এডমিট ও এসেছে তাহলে,, (অবাক হয়ে)

দোলন-- কিন্তু স্যার আমরা তো এক সাথেই ফর্ম জমা দিয়েছি তাহলে,,

অনু-- বিনা কারণে এইভাবে ওর এক্সাম কেন ক্যান্সেল হবে,,

চাঁপা-- হ্যা স্যার আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে,,

স্যার-- দেখো কোয়েল আমরা সবাই যানি যে,, তুমি অত্বন্ত মেধাবী ছাত্রী,, আমারও খারাপ লাগছে তোমাকে নিয়ে,, কিন্তু কিছু করার নেই,, প্রিন্সিপাল স্যার তোমার এক্সাম ক্যান্সেল করে দিয়েছে,, এতে আমরা কিছু করতে পারবো না,,

কোয়েল-- স্যার এটা আপনি কি বলছেন,, আমার পুরো লাইফ নষ্ট হয়ে যাবে,, প্লিজ স্যার,,

স্যার-- আই নো মাই চাইল্ড,, কিন্তু এতে আমাদের কিছু করার নেই,, কিন্তু তুমি প্রিন্সিপাল স্যার এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারো,, এখনো ১০ মিনিট সময় আছে তোমার কাছে,, গোওও,,

কোয়েল-- থ্যাঙ্কিউ স্যার,,

--বলেই কোয়েল বেড়িয়ে গেলো,, তাড়াতাড়ি লিফটে করে গ্ৰাউন্ড ফ্লোরে গিয়ে স্যারের কেবিনের সামনে গিয়ে নক করলো,,

কোয়েল-- may i coming sir,,

প্রিন্সিপাল-- ইয়েস কামিং,,

--কোয়েল কেবিনের ভিতরে প্রবেশ করলো,,

কোয়েল-- স্যার আমি কোয়েল সেন,,

প্রিন্সিপাল-- ওহ্,, তুমিই কোয়েল সেন,, যার এক্সাম ক্যান্সেল করা হয়েছে,,

কোয়েল-- ইয়েস স্যার,, কিন্তু কেনো স্যার সেটা কি আমি যানতে পারি,, আমার কি কোনো ভুল হয়েছে স্যার,,

প্রিন্সিপাল-- এতে তোমার কোনো ভুল নেই,,

কোয়েল-- তাহলে,,

প্রিন্সিপাল--তোমার এক্সাম ক্যান্সেল শুভ্র করেছে

-- প্রিন্সিপাল স্যারের কথায় কোয়েল বিশ্ময় নিয়ে তাকালো,,

প্রিন্সিপাল-- শুভেন্দু চৌধুরী কে যেনো,, শুভ্রর বাবা উনি এই কলেজের ওনার,, আর তুমি নিজের অজান্তেই শুভ্র কে ঘাটিয়েছো,, সত্যিই বলতে আমি মুগ্ধ তোমার প্রতিবাদ স্বরুপ কথায়,, কিন্তু কি বলো তো মা,, আমাদের সমাজে,, টাকা ছাড়া কিছু হয়না,, তুমি শুভ্রকে ঘাটিয়ে অনেক বড়ো ভুল করেছো, আর তার মাসুল তোমাকে দিতে হচ্ছে,,

কোয়েল-- কিন্তু স্যার তাই বলে এই ভাবে আমার লাইফ টা নষ্ট হয়ে যাবে,, কিছুই কি করার নেই স্যার,, এটা যে শুধু আমার একার স্বপ্ন নয়,, এটা আমার বাপির ও স্বপ্ন,,

--কোয়েলের কথায় প্রিন্সিপাল স্যার কোয়েলের কাছে গিয়ে ওর মাথায় হাত দিয়ে বললো

প্রিন্সিপাল-- দেখো,, তোমাকে আমি নিজের মেয়ের মতো দেখি,, তাই বলছি,, শুভ্রর কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও,,

কোয়েল-- কখনো না,,

প্রিন্সিপাল-- এতে তোমারই বিপদ,, তুমি কি ভাবছো শুভ্র তোমাকে এমনি এমনিই ছেড়ে দেবে,, না,, আমারো একটা মেয়ে আছে,, তাই বলছি শুভ্রর কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও,, তোমার বাপির কথা ভাবো,, সে কতো আসা করে তোমাকে এই কলেজে পড়াচ্ছে,, তোমার হাতে কিন্তু আর ৫ মিনিট সময় আছে,, আর ৫ মিনিট পরেই এক্সাম শুরু হয়ে যাবে

-- প্রিন্সিপাল স্যারের কথায় কোয়েল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল তারপর বললো

কোয়েল-- আমি রাজি,,

-- কোয়েলের কথায় প্রিন্সিপাল স্যার একটা শ্বাস টেনে,, পিওনকে ডেকে বললো শুভ্রকে ডেকে আনতে,, কিছুক্ষণ পর শুভ্র কেবিনে প্রবেশ করে সাথে লিজা ও,,

শুভ্র-- বলুন কি বলবেন,,

প্রিন্সিপাল-- কোয়েল যাও,,

-- কোয়েল শুভ্রর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে বলে,,

কোয়েল-- আমি ক্ষমা চাইছি আপনার কাছে,,

শুভ্র-- কিসের ক্ষমা(না বোঝার ভান করে)

কোয়েল-- সেদিন আপনাকে ওইভাবে আমার কথা শোনানো উচিত হয়নি,, প্লিজ ক্ষমা করে দিন,, এইভাবে আমার জীবন টা নষ্ট করবেন না

-- কোয়েল কথায় শুভ্র বাঁকা হেঁসে বলে,,

শুভ্র-- তুমি সবার সামনে আমাকে থাপ্পর দিয়ে দিলে,, তার বদলে সামান্য একটা স্যরি,,

কোয়েল-- আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো,,

শুভ্র-- ওয়েল,, তো লিজা বেবি একে কি শাস্তি দেওয়া যায় বলো তো,,

লিজা-- বেবি,, একে বলো তোমার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে,,

শুভ্র-- শুনতেই তো পেলে কি বললো,, লেট্স স্টার্ট,, (কোয়েলের দিকে তাকিয়ে)

-- কোয়েল একবার প্রিন্সিপাল স্যারের দিকে তাকিয়ে দেখলো উনি মাথা নিচু করে বসে আছেন,, কোয়েল এবার শুভ্রর সামনে দুই হাটু মুড়ে বসে হাত জোড় করে বললো

কোয়েল-- আমার ভুল হয়ে গেছে,, আর কখনো এমন হবে না,, আমি কথা দিচ্ছি আমি আর কোনো দিনও আপনার সামনে আসবো না,,

শুভ্র-- হয়েছে, হয়েছে যাও আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম,, প্রিন্সিপাল স্যার ছেড়ে দিন একে,,

-- বলেই লিজাকে নিয়ে চলে গেল,, আর কোয়েল ওখানে বসে ডুকড়ে কেঁদে উঠলো,, প্রিন্সিপাল স্যার নিজের ডেস্কের উপর থেকে কোয়েলের এক্সাম সিট আর একটা কাগজে কিছু লিখে তারপর সেটা নিয়ে কোয়েলের কাছে গিয়ে ওর বাহু ধরে তুলে বললো

প্রিন্সিপাল-- কোয়েল,, এই নাও তোমার  এক্সাম সিট,, আর এই কাগজ টা তোমাদের যেই স্যার এক্সাম গাইড আছে তাকে দিবে,, (কোয়েলের মাথায় হাত দিয়ে) আর এইসব ঝামেলাই নিজেকে জড়িয়ো না মা,, যাও মন দিয়ে পরিক্ষা দাও,,

-- কোয়েল এক্সাম সিট টা আর ওই কাগজ টা নিয়ে চলে গেল,, ক্লাসে গিয়ে স্যার কে কাগজ টা দিয়ে নিজে বসে পড়লো,, তারপর লিখতে লাগলো,, এমনিতেই ৫ মিনিট লেট হয়েছে,, দোলন রা ওর অপেক্ষায় ঠিক মতো এক্সাম ও দিতে পারছিল না,, বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিল,, কিন্তু কোয়েল কে দেখে এখন স্বস্থির শ্বাস নেই,, কোয়েল লিখতে লিখতেই ওর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে,,

কোয়েল-- আজকের পর থেকে আমি শুধুই আপনাকে ঘৃনা করি মিস্টার শুভ্র চৌধুরী,, জীবনে প্রথম আমি কাউকে ঘৃনা করছি,, আর সেটা হলো আপনি মিস্টার শুভ্র চৌধুরী,,জীবনের সব থেকে বেশি ঘৃণা করি আমি আপনাকে,,আই হেইট ইউ শুভ্র চৌধুরী আই জাস্ট হেইট ইউ,,

___________________________

--দেখতে দেখতে প্রায় একটা বছর কেঁটে গেলো,, কোয়েল ফ্রাস্ট সেমিস্টারের রেজাল্ট এ কোয়েল গোটা ক্লাসের মধ্যে ফ্রাস্ট হয়েছে,, সেকেন্ড হয়েছে অনু আর একটা ছেলে,, থার্ড হয়েছে দোলন-চাঁপা আর দুটো ছেলে,, এই একটা বছরে কোয়েল ভুল করেও আর শুভ্র ও তার গ্যাঙ্গ এর সামনে যায় না,, সব সময় তাদের এড়িয়ে চলেছে,, শুভ্রও প্রায় কোয়েলের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছে,, কিছুদিন আগেই ওদের ফ্রাস্ট ইয়ারের রেজাল্ট বের হয়েছে,, ফ্রাস্ট ইয়ারের এক্সামে এইবারও কোয়েল গোটা ক্লাসে ফ্রাস্ট হয়েছে,, সেকেন্ড হয়েছে অনু আর একটা ছেলে,,  থার্ড হয়েছে দোলন-চাঁপা দুজনেই সেম নাম্বার পেয়েছে,, সবাই কোয়েল কে নিয়ে অনেক খুশি,, ৮ মাস হয়েছে চাঁপা আর আরিয়ান এখন রিলেশনে আছে,, এই নিয়ে কোয়েল অনেক খুশি,, প্রথমে শুভ্র আর কোয়েলের এই ঝামেলার কারণে দোলন - চাঁপা দুজনেই এই রিলেশনে যেতে চাইনি কিন্তু অর্ক আর আরিয়ান লয়াল ভাবে ওদের ভালোবাসা দেখে কোয়েলই এক প্রকার জোর করে একসাথে করেছে,, আজকে ওদের কলেজে একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে,, মূলত অনুষ্ঠানটি সবার রেজাল্ট নিয়েই হচ্ছে,,

_______________________

কোয়েল নিজের ঘরের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখে কাজল দিচ্ছে,, আজকে ওদের ক্লাসের সবাই শাড়ি পড়ে আসবে, তাই কোয়েল ও নীল কালারের শাড়ি পড়েছে,, ডিজাইনার ফুল হাতা নীল ব্লাউজ,, কালো কানের দুল,, হাতে কালো রঙের ঘড়ি,, ঠোঁটে হালকা নুড লিপস্টিক,, আর চোখে গাঢ় কাজল, কপালে নীল রঙের লিকুইড টিপ,, লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দেওয়া,, ব্যাস কোয়েল রেডি,, মুখে স্কার্ফ জড়াতেই যাবে তখনি অখিলেশ বাবু রুমের মধ্যে প্রবেশ করে,,

অখিলেশ-- কি করছিস মা,,

--বাবার কথায় কোয়েল মুচকি হেসে তাকিয়ে বলে,

কোয়েল-- এইতো বাপি মুখে স্কার্ফ টা জড়াচ্ছি,,

-- কোয়েলের কথায় অখিলেশ বাবু কোয়েল কাছে গিয়ে ওর হাত থেকে স্কার্ফ টা নিয়ে বললো

অখিলেশ-- আজ থেকে তুমি স্বাধীন,,

-- অখিলেশ বাবুর কথায় কোয়েল বিশ্ময় নিয়ে তাকায়,, তা দেখে অখিলেশ বাবু মুচকি হেসে বলে,,

অখিলেশ বাবু-- বলেছিলাম না,, যেদিন তুমি তোমার রাগ কে কন্ট্রোলে আনতে পারবে,, আর ক্লাসে ফ্রাস্ট হতে পারবে সেইদিন থেকে তুমি এই বহুরুপী সাজ থেকে মুক্তি,,

কোয়েল-- সসত্যিই বাপি,,

অখিলেশ-- হ্যা সোনা আমার,, আজকের পর থেকে আর তোমাকে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে হবে না,,

-- কোয়েল খুশি হয়ে ওর বাবা কচ জড়িয়ে ধরে বললো

কোয়েল-- অনেক অনেক ধন্যবাদ বাপি,,

অখিলেশ বাবু-- হয়েছে এখন যাও তোমার টুইন্স নিচে অপেক্ষা করছে তোমার জন্য,, আর আমাকেও স্কুলে যেতে হবে,,

কোয়েল-- ওরা চলে এসেছে,,

অখিলেশ-- হুম তোমার জন্য অপেক্ষা করছে যাও,,

--কোয়েলের বাবার থেকে বিদায় নিয়ে কোয়েল নিচে এসে দেখলো ওরা দুইজন সোফায় বসে ঠাম্মার সাথে কথা বলছে,, আজকে দোলন নীল রঙের শাড়ি আর চাঁপা খয়েড়ি রঙের শাড়ি পড়েছে,, কোয়েল ওদের কাছে গিয়ে বললো

কোয়েল-- ওয়াহ্,, তোদের এতো কিউট লাগছে দেখতে,, ওহ্ মাই গড,,

-- কোয়েলের কথায় দুজনেই ওর দিকে তাকিয়ে বলল

দোলন-- ওয়াওওও, কোয়েল আজকে তো তোকে খুব সুন্দর লাগছে,, দেখবি কলেজের সব ছেলেরা আজকে তোর প্রেমে পড়ে যাবে,,

চাঁপা-- প্রেমে আর কোথায় পড়বে,, ও তো মুখ চোখ ঢেকেই যাবে,,

-- চাঁপার কথায় কোয়েল মুচকি হেসে বললো

কোয়েল-- কে বলেছে আমি মুখ ঢেকে যাবো,, বাপি আমাকে পারমিশন দিয়ে দিয়েছে,,

দোলন+চাঁপা-- সত্যিই,, (চিল্লিয়ে)

কোয়েল-- ইয়েস,, টুইন্স সিস্টার,,

দোলন-- ওহ্ মাই গড আমার তো বিশ্বাসী হচ্ছে না,,

কোয়েল-- বিশ্বাস না হলেও করে নাও সোনা,,

চাঁপা-- ওওওওওও

-- কোয়েল কে জড়িয়ে ধরলো,, তা দেখে দোলন ও জড়িয়ে ধরলো,,

কোয়েল-- ঠিক আছে এবার চলুন রানী সাহেবা,, নাহলে দেরী হয়ে যাবে,,

দোলন-- হুম চল,,

অখিলেশ-- এই দাড়াও,, রণাক বাইরে দাঁড়িয়ে আছে  তোমাদের জন্য,,,

কোয়েল-- রণ দা!

অখিলেশ-- ও যেহেতু একই কলেজে যাচ্ছে তাই ও তোমাদের নিয়ে একেবারে যাচ্ছে, আর শাড়ি পড়ে ট্রেনে যেতে অসুবিধা হবে তোমাদের,,

কোয়েল-- আচ্ছা বাপি তাহলে আমরা আসি,,

অন্তরা দেবী-- রণাক বাইরে দাঁড়িয়ে আছে যা এবার,,

কমলা দেবী-- সাবধানে যাস দিদিভাই,,

কোয়েল-- আচ্ছা ঠাম,, মা, বাবা আসছি,, ঠাম আসছি,,

-- বলেই বেরিয়ে গেলো বাইরে এসে দেখলো রণাক দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে,, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কোয়েলের দিকে,, তা দেখে চাঁপা কোয়েল কে খোঁচা দিয়ে বললো

চাঁপা-- ওহোও কি প্রেম,, দেখ দেখ দোলন,, একদম হা করে তাকিয়ে আছে রণ দা,,

দোলন-- তাই তো দেখছি রে,,

কোয়েল-- এই তোরা চুপ করবি সব সময় উল্টো পাল্টা কথা,,

দোলন-- বা রে,, আমরা আবার কি করলাম,, যা দেখছি তারই তো রিভিউ দিচ্ছি,,

কোয়েল-- তোদের এতো রিভিউ দিতে হবে না চল,, হাই রণ দা

-- রণাকের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,, কোয়েলের কথায় রণাক বাস্তবে ফিরে এলো,, মাথা চুলকে বললো

রণাক-- হ্যালো,, হ্যালো দোলন+চাঁপা

দোলন+চাঁপা-- হ্যালো রণ দা,,

রণাক-- খুব সুন্দর লাগছে তোমাদের আজকে,,

দোলন+চাঁপা+কোয়েল-- ধন্যবাদ রণ দা,, আজ তোমাকেও খুব সুন্দর লাগছে,,

রণাক-- যায় তাহলে,,

দোলন+চাঁপা+কোয়েল-- হ্যা চলো,,

-- চার জনের গাড়িতে উঠে পড়ল,, রণাক ড্রাইভিং সিটে বসল,, কোয়েল ফ্রন্ট সিটে,, আর দোলন+চাঁপা পিছনের সিটে,, রণাক গাড়ি চালাতে চালাতে বারবার কোয়েলের দিকে তাকাচ্ছে,, তা দেখে দোলন+চাঁপা মিটিমিটি হাসছে আর কোয়েল কে খোঁচাচ্ছে,, প্রায় এক ঘন্টা পর ওরা ওদের কলেজের সামনে এসে পৌঁছালো,, তিনজনেরই গাড়ি থেকে নেমে রণাক কে বললো,,

কোয়েল-- রণ দা তুমি গাড়ি পার্ক করে আসো,, আমরা ভেতরে যাচ্ছি,,

রণাক-- আচ্ছা যাও,,

-- ওরা তিনজনেই কলেজের ভিতরে ঢুকে গেল,, ক্যাম্পাসের মাঝে বড়ো করে অনুষ্ঠান টা আয়োজিত করা হয়েছে,, ওরা সেদিকটাই যেতে ধররেই অনু দৌড়ে এসে কোয়েল কে জড়িয়ে ধরে বলে

অনু-- ওয়াও কোয়েল তোকে আজ কি সুন্দর লাগছে,,

কোয়েল--আর তোকেও খুব সুন্দর লাগছে দেখতে,,

-- অনু নেভিব্লু কালারের শাড়ি পড়েছে,, খুব সুন্দর লাগছে দেখতে,,

দোলন-- শুধু কোয়েল কেই সুন্দর লাগছে,, আমাদের লাগছে না বুঝি,,

অনু-- আরে তোদের কেউ সুন্দর লাগছে দেখতে (দোলন+চাঁপা কে জড়িয়ে ধরে)

কোয়েল-- এখন চল

-- ওরা চার জনেই অনুষ্ঠান যেখানে আয়োজিত হয়েছে যেতে লাগল,, ঠিক তখনি ওখানে অর্ক,আরিয়ান, আকাশ এসে হাজির,, তিনজনেই তো অনু-দোলন-চাঁপা কে দেখে ফ্ল্যাট হয়ে গেছে,, কোয়েল জুতোর ফিতে লাগানোর জন্য নিচে বসে জুতো লাগাছিল তাই কেও কোয়েল কে দেখতে পাই নি,, দোলন রা অর্ক দের এইভাবে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললো

দোলন-- ওই,, এইভাবে হা করে কি দেখছো তুমি,,

চাঁপা-- এই আরিয়ান এইভাবে কি দেখছো,,

অনু-- আকাশ,, আকাশ তুমিও এইভাবে হা করে তাকিয়ে আছো কেনো,,

-- ওদের কথায় আকাশ রা সমন্বিত ফিরে পায়,, গলা খাকারি দিয়ে বলে,,

আকাশ-- ওও, ওই আসলে,,

অনু-- কি আসলে নকলে করছো,, যা বলবে স্পষ্ট বলে ফেলো,,

আকাশ-- তোমাকে দেখেই আমি ফ্ল্যাট হয়ে গিয়েছি,,

--আকাশের কথা শুনে অনু তো লজ্জায় রাঙা হয়ে গেছে,,  অর্ক আর আরিয়ান এর ও একই কথা,, জুতো ঠিক করে কোয়েল ওদের কাছে এসে বললো

কোয়েল-- কি রে তোরা এইভাবে এইখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস,,

--কোয়েলের কথায় ছয় জনেই বাস্তবে ফিরে এলো,, ছয় জনেই ওদের দিকে তাকালো,, দোলন বললো

দোলন-- আরে এইতো ওদের সাথে কথা বলছিলাম,, তোর জুতোর ফিতে লাগানো হয়ে গেছে

কোয়েল-- হ্যা হয়ে গেছে,,

--আকাশ অর্ক আরিয়ান তিনজনেরই ভ্রু কুঁচকে তাকালো,, ওরা কোয়েল কে চিন্তে পারছে না 

অর্ক-- কে তুমি,,

ক্রমশঃ

                           শুভ্র+কোয়েল এর লুক

আমার গল্প হয়তো অনেক জায়গায় বানান‌ ভুল

আছে,, আবার এক লেখার জায়গায় উল্টো লেখাও আছে,, দয়া করে কেও কিছু মনে করবেন না,, টাইপিং মিসটেক এর জন্য হয়েছে, আমি গল্প লেখার পরে আর রিচেক করি না,,

Write a comment ...

Write a comment ...