07

ভালোবাসা এতো অদ্ভুতও হয় ৬

কোয়েল রা ক্লাস শেষ করে ক্যান্টিনে আসলো,, আজকে অনু ট্রিট দিবে বলেছে,, কোয়েল রা সল্প কিছু খাবার অর্ডার করলো,,, খেতে খেতেই হঠাৎ কোয়েলের ফোনে ফোন আসলো,,

কোয়েল-- এই তোরা খা আমি একটু আসছি রণ দা ফোন করছে,, কথা বলে আসি,,

দোলন-- ওও হোও সামথিং সামথিং,, (দুষ্টু হেসে)

কোয়েল--একটা দিবো,,

চাঁপা--আচ্ছা যা,,

--কোয়েল ক্যান্টিনের বাইরে গিয়ে রণ এর সাথে কথা বলতে লাগলো

কোয়েল-- হ্যা রণ দা বলো,,

রণাক-- বলছি যাওয়ার সময় একবার বাড়ি তে দেখা করে যেও,,

কোয়েল-- আচ্ছা,,

রণাক-- কি করছো এখন?

কোয়েল-- ওই ক্যান্টিনে খেতে এসেছি,,

রণাক-- স্যরি,স্যরি আসলে আমি ভেবেছিলাম যে তুমি হয়তো ফ্রি আছো,,স্যরি খাওয়ার সময় ডিস্টার্ব করার জন্য

কোয়েল-- আরে কোনো ব্যাপার নয়,, আচ্ছা রাখি তা হলে

রণাক-- আচ্ছা রাখি,,

--কোয়েল ফোন রেখে ঘুরে যেই আসতে যাবে অমনি কারোর সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে নিতেই কেউ কোয়েল কে এক হাতে জড়িয়ে ধরে পড়ে যাওয়া থেকে আটকালো,, কোয়েল ভয়ে চুখ বন্ধ করে আছে,, আর শুভ্র কোয়েলের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,,কেন যেনো মনে হচ্ছে এর আগেও ও কোয়েলের মতই চোখ দেখেছে,, এবার কোয়েল ভয়ে ভয়ে নিজের চোখ খুলে সামনে শুভ্র কে দেখে হকচকিয়ে গেল,, তারপর নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দুই কদম পিছনে গিয়ে,, মাথা নিচু করে বললো,,

কোয়েল-- স্যরি আসলে ভুল করে আপনার সাথে ধাক্কা লেগে গেছে,, আমি বুঝতে পারিনি,, স্যরি,,

--এতক্ষণে শুভ্রর ধ্যান ভাঙলো,, কোয়েলের কথায় শুভ্র কিছু বলতে যাবে অমনি কোথায় থেকে লিজা এসে কোয়েলের গালে থাপ্পর মেরে দিল,,আচমকা এমন হওয়ায় কোয়েল ও শুভ্র দুজনেই হকচকিয়ে গেলো,, কোয়েল গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে,, লিজা কোয়েলের দিকে তেড়ে গিয়ে ওর দুই বাহু খাঁমচে ধরে ওকে বলতে লাগলো,,

লিজা--এই থার্ড ক্লাস মেয়ে তোদের সাহস হলো কি করে শুভ্র কে টাচ করার,, তোদের মতো মেয়েদের আমার খুব ভালো করেই চেনা আছে,, ক্যারেক্টারলেশ মেয়ে একটা,, আর কোনো দিনও যদি তোকে আমি আমার শুভ্রর দিকে তাকাতেও দেখেছি তাহলে তোর এই চোখ আমি তুলে নিবো,, চল দূর হ্,, আমার চোখের সামনে থেকে,,

--বলেই কোয়েল কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো,, তারপর শুভ্রর কাছে গিয়ে ওর গলা জড়িয়ে ধরে বলল

লিজা--শুভ্র বেইবি,, তোমাকে এই ডার্টি মেয়েটা টাচ করেছে তাই না,, চলো এখান থেকে,, তোমার যেখানে যেখানে এই ডার্টি মেয়েটা টাচ করেছে আমি ওইগুলো টিস্যু দিয়ে পরিস্কার করে দিবো,,

--শুভ্র লিজার কথা মাথাতেই ঢুকছে না ওতো এক দৃষ্টিতে কোয়েলের দিকে তাকিয়ে আছে,, আর কোয়েল সেতো নিজের কনুই ধরে আস্তে আস্তে ক্যান্টিনের দিকে চলে গেলো,, আর লিজা শুভ্র কে টেনে নিয়ে যেতে গেলে শুভ্র এক ঝটকায় লিজার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো,,

শুভ্র--  Don't dare to touch me,, তুমি ভেবো না যে তুমি যা বলবে আমি সব মেনে নেবো,, নিজের লিমিটে থাকো,,

--বলেই শুভ্র ওখান থেকে চলে গেলো,, আর শুভ্রর কথা শুনে লিজা রেগে গিয়ে বলতে লাগলো,,

লিজা-- সামান্য দুই টাকার মেয়ের জন্য তুমি আমাকে ইন্সাল্ট করলে,, ওই মেয়ে কে তো আমি ছাড়বো না,,

--বলেই রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো,, এইদিকে কোয়েল দোলন দের কাছে আসতেই দোলন বলে উঠল,,

দোলন-- কিরে এতো দেরি হলো কেনো,,

চাঁপা-- খুব প্রেম চলছে তাই না,,

কোয়েল-- কি সব বলছিস,, তেমন কিছুই না,,

অনু-- তো কেমন কিছু আমরাও শুনি,, আমাদের হবু জিজুর ব্যাপারে,,

কোয়েল-- অনু এবার কিন্তু একটু বেশি বেশিই হয়ে যাচ্ছে,, দেখ তেমন কিছুই না,,

চাঁপা-- দুই পরিবারই তো রাজি তাহলে না হওয়ারই বা কি আছে,,

কোয়েল-- দেখ আমাদের পরিবার এই সিদ্ধান্ত টা আমদের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে,, আর বাপি এটাও বলেছে যে আমার পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইসব না বলতে,,

দোলন-- তোর কি রণাক দা কে পছন্দ নয়,,

কোয়েল-- সেটা না,, রণাক দা ছেলে হিসেবে খারাপ না,, কিন্তু ওনারও তো একটা মতামত আছে বল,,

অনু-- তাহলে তোর রণাক দা কে পছন্দ তাই তো,,

কোয়েল-- বাপি যা বলবে আমি তাই করবো,, এইসব বিয়ে টিয়ে নিয়ে এখন কিছু ভাবছি না,,

অনু-- তাহলে ধরে নে রণাক স্যারই আমাদের জিজু হচ্ছে,,

দোলন-- ধরার কি আছে আমি তো আগে থেকেই যানি কোয়েল ও মনে মনে রণ দা কে পছন্দ করে,,

চাঁপা--আমাদের রণ দাও কি অপছন্দ করে নাকি,, দেখিস না ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে রণ দা কোয়েলের দিকে তাকায়, আবার রোজ একবার করে ফোন করে খোঁজ খবর নেই,,

--ওদের কথা শুনে কোয়েল শুধু হাঁসলো,, যেটা কেউ বুঝতে পারল না কারণ তার মুখ ঢাকা,, খাওয়া শেষে অনু বিল মিটিয়ে তারপর ওখান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসলো বাইরে আসতেই দেখলো আকাশ বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,, তা দেখে কোয়েল অনুকে খোঁচা দিয়ে বললো

কোয়েল--অনু বেবস,, তোমার আশিক তো তোমার জন্য অপেক্ষা করছে যাও যাও,,

--কোয়েলের কথা শুনে অনু চোখ গরম করে তাকালো,, তা দেখে কোয়েল হেসে দিল,,

দোলন-- ওকে বকে আর কি হবে,, সত্যিই তো তোর আশিক তোর জন্য অপেক্ষা করছে যা,,

চাঁপা-- হ্যা হ্যা চল চল আমরাও একটু কথা বলি গা,,

--বলেই ওরা তিনজন মিলে অনু কে নিয়ে গেলো,,, আকাশের সামনে যেতেই আকাশ বললো

আকাশ--কি ব্যাপার সবাই একসাথে এইখানে,, ঠিক হজম হলো না ব্যাপার টা,,

কোয়েল-- হজম না হলেও হজম করতে শিখুন,,

আকাশ-- মানে, ঠিক বুঝলাম না

কোয়েল-- আপনাকে কিছু বুঝতে হবে না,, আমাদের যা বোঝার বোঝা হয়ে গেছে,,

আকাশ-- কি বোঝা হয়ে গেছে,,

দোলন-- এইযে আপনি আমাদের ফিউচার জিজু সেটা,,

আকাশ-- ওহ্,, তাহলে তো ভালোই,, তো আমার প্যারি শালিকা গণ আপনাদের অনুমতি যদি থাকে তাহলে কি আমি এখন আপনার ফ্রেন্ড কে নিয়ে যেতে পারি,,

চাঁপা-- অবস্যয় কেনো নয়,,

--অনু আকাশের বাইকের পিছনে উঠে পড়লো,, তারপর ওদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল,, আর ওরা তিনজন ও চলে গেল,,

ক্রমশঃ

আমার গল্প হয়তো অনেক জায়গায় বানান‌ ভুল আছে,, আবার এক লেখার জায়গায় উল্টো লেখাও আছে,, দয়া করে কেও কিছু মনে করবেন না,, টাইপিং

মিসটেক এর জন্য হয়েছে, আমি গল্প লেখার পরে আর রিচেক করি না,,

Write a comment ...

Write a comment ...