কোয়েল-- আচ্ছা রণ দা তুমি এতো অল্প বয়সে কি ভাবে ওই কলেজের টিচার হলে,,
--কোয়েলের কথায় রণাক মুচকি হেসে বলল
রণাক-- তুমি হয়তো যানো না আমি ওই কলেজেরই স্টুডেন্ট ছিলাম,, আর আমি যাস্ট পার্ট টাইমার,, আর তুমি তো জানোই যে বাবার বিজনেস আমাকেও দেখতে হয়,,
কোয়েল-- আঙ্কেলের এতো বড়ো বিজনেস থাকতে তুমি কলেজে কেনো পার্টটাইম করছো,,
রণাক-- আমি ছোট থেকেই টিচার হতে চেয়েছিলাম বাট বাবা,মা এর ইচ্ছে ছিল যে আমি বাবার বিজনেস দেখাশোনা করি,, তাই দুটোই একসাথে,, এতে করে নিজের ও মন রাখলাম সাথে বাবা, মা ও খুশি,,
কোয়েল-- তুমি খুব ট্যালেন্টেন যানো তো,,
--কোয়েলের কথা রণাক কোন জবাব দিল না,, শুধু মুচকি হাসলো,, হঠাৎই রণাক গাড়ি দাড় করিয়ে দিল,, তারপর গাড়ি থেকে নেমে গেলো,, তা দেখে কোয়েল বললো
কোয়েল--আরেহ্ রণ দা কোথায় যাচ্ছো,,
--রণাক কোয়েলের পাশের দরজা খুলে দিয়ে বললো
রণাক--বেরিয়ে আসুন মহারানী,, চলুন ফুচকা খেয়ে আসি,,
--ফুচকার কথা শুনে কোয়েল খুশিতে গদগদ হয়ে গেলেও পরক্ষণেই মন খারাপ করে বলে উঠলো,,
কোয়েল-- এই অবস্থায় ওখানে,, আজ থাক অন্য একদিন খাবো,,
--কোয়েলের ব্যাপার টা রণাক বুঝতে পেরে বললো
রণাক--আচ্ছা তুমি বসো,, আমি তোমার জন্য ফুচকা প্যাকেট করে নিয়ে আসছি,,
কোয়েল-- আচ্ছা ঠিক আছে যাও তাহলে,, (খুশি হয়ে)
--রণাক ও হাঁসি হাঁসি মুখ নিয়ে ফুচকা আনতে চলে গেলো,, প্রায় কুড়ি মিনিট পর ফিরে আসলো,,
কোয়েল--এতোক্ষণ লাগলো ফুচকা আনতে সেই কখন থেকে তোমার অপেক্ষা করছি,,
রণাক-- স্যরি গো,, আসলে ওই সামনের একটা ফার্মেসি তে গিয়েছিলাম,,
কোয়েল--হঠাৎ ফার্মেসিতে কেনো,, কার কি হয়েছে,,
রণাক--কারোর কিছু হয়নি এই প্যাকেট টা নাও,,
--একটা কালো প্যাকেট কোয়েলের দিকে এগিয়ে দিয়ে,, কোয়েল ভ্রু কুঁচকে প্যাকেট টা হাতে নিয়ে তার ভিতরে দেখলো চারটা ফেসপ্যাক আছে,,
কোয়েল-- এসব কি,,
রণাক-- কাল আর পরশু তো কলেজ ছুটি তাই এই দুইদিন আর আজকে ধরে মোট তিনদিন এই ফেস প্যাক টা মুখে লাগাবে,, তাহলেই এই সব কালার উঠে যাবে + আগের মতো হয়ে যাবে,, আমি ডক্তর এর থেকে জেনে তারপর এনেছি,,
কোয়েল-- থ্যাঙ্কিউ রণ দা থ্যাঙ্কিউ সো মাচ,,
রণাক-- ইউ আর ওয়েলকাম,, এবার এই ফুচকা গুলো শেষ করো,,
--কোয়েলও মুচকি হেসে ফুচকা খেতে শুরু করলো,, প্রায় ১৫ মিনিট পর ওরা কোয়েল দের বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামালো,, তারপর ওরা দুজন বাড়ির ভিতরে চলে গেল,,
_____________________
--ওই দিকে শুভ্র দের বাড়িতে,, শুভ্রর বোন, মা, বাবা, সবাই বসে কি নিয়ে যেন কথা বলছে,,শুভ্র সেদিকে পাত্তা না দিয়ে শুভ্র শিড়ি বেয়ে নিজের রুমে যেতে গেলেই ওর বাবা শুভেন্দু বাবু বলে উঠলেন,,
শুভেন্দু বাবু-- দাঁড়াও শুভ্র,,
--শুভ্র ওর বাবার মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে বললো
শুভ্র--বলুন মিস্টার চৌধুরী,,
--শুভ্রর কথা শুনে শুভেন্দু বাবু মনে মনে কষ্ট পেলেন,, তবুও বললেন,,
শুভেন্দু বাবু-- আমাদের কলেজের প্রিন্সিপাল এর কাছ থেকে শুনলাম যে তুমি নাকি ফ্রাস্ট ইয়ার এর একটা মেয়ের ওপর ragging করেছো,, (গম্ভির গলায়)
--শুভেন্দু বাবুর কথায় মিসেস নিলাঞ্জনা দেবী ওনাকে শান্ত করতে করতে বললেন
নিলাঞ্জনা দেবী-- আপনি প্লিজ বেশি হাইপার হবেন না,, ছেলেটা কতদিন পর এলো,, তুমি প্লিজ পরে এই বিষয় নিয়ে কথা বলো
---স্ত্রী এর কথায় পাত্তা না দিয়ে শুভেন্দু বাবু আবার বললেন,,
শুভেন্দু বাবু--কি হলো শুভ্র বলো,,
শুভ্র-- শুনছেন যখন,, তখন আবার আমাকে জিজ্ঞেস করার কি আছে,,
শুভেন্দু বাবু-- কি করেছো তুমি ওই মেয়েটার সাথে,, কলেজে গিয়ে তুমি পড়াশোনা বাদ দিয়ে এইসব করছো,, ছি! আমার ভাবতেও ঘেন্না লাগছে,,
শুভ্র--আপনাকে ভাবতেই বা কে বলেছে,, আমার ব্যাপারে আপনি কবে থেকে ভাবতে শুরু করেছেন,,
শুভেন্দু বাবু--শুভ্র তুমি ভুলে যেও না আমি তোমার বাবা,, ভদ্র ভাবে কথা বলো,,
শুভ্র-- সেটাই তো,, আমি ভুলতে পারি না যে আপনিই আমার বাবা,, বিশ্বাস করুন মিস্টার চৌধুরী,, আমার কাছে যদি এমন শক্তি থাকতো না তাহলে আমি কবেই আপনাকে ভুলে যেতাম,, কিন্তু আফসোস,, আমি চেয়েও আপনাকে ভুলতে পারছি না,,
--বলেই হনহন করতে করতে উপরে নিজের রুমে চলে গেল,, আর শুভেন্দু বাবু মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়লো,,
_________________________
--৩ দিন পর,,আজ তিন দিন পর কোয়েল কলেজে যাচ্ছে,, এখন কোয়েল অনেক টাই সুস্থ,, রণাক এর ফেসপ্যাক টা কাজে লেগেছে,, দুইদিনেই একদম ঠিক হয়ে গেছে,, আজকে দোলন-চাঁপা ও কোয়েলের সাথে কলেজ যাচ্ছে,, কলেজে পৌছে ওরা অনুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো,, কিছুক্ষন পর অনু চলে আসলো,,
চাঁপা-- কিরে আজ এত দেরি হলো যে
অনু-- আজকে বাবার সাথে আসলাম তাই দেরি হয়ে গিয়েছে,,
কোয়েল-- আচ্ছা তাহলে চল ক্লাসে যায়,,
দোলন--হ্যা হ্যা চল,,
--ওরা চার জনেই ক্লাসে যেতে লাগল,, ঠিক তখনি ওখানে লিজা,, নাতাশা আর অ্যানা এসে কোয়েলের পথ আটকে দাঁড়ালো,,
কোয়েল--কি চাই এখানে,,
--কোয়েলের কথা শুনে লিজা বাঁকা হেঁসে কোয়েলের কাছে গিয়ে বললো,,
লিজা-- আমাদের কিই বা চাওয়ার আছে তোমার মতো একটা মিডিল ক্লাস,, ডাউন মার্কেট,, ব্যাহেঞ্জির কাছে,, কি বা আছে তোমার,,
কোয়েল-- যানেনিই,, যখন কিছু নেই,, তাহলে এইভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো,, আপনাদের কাছে,, সময়ের কোনো মূল্যে নাই বা থাকতে পারে,, কিন্তু আমাদের আছে,, তাই রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ান,,
--কোয়েলের কথায় লিজা রেগে গিয়ে ওর কাছে গিয়ে ওকে ধাক্কা মারতে যাবে,, ঠিক তখনি কোয়েল কৌশলে ওখান থেকে সরে ক্লাসের মধ্যে ঢুকে যায়,, যার ফলে লিজা ধপাস করে নিচে পড়ে যায়,, আর ওখানে উপস্থিত সবাই,, হা করে তাকিয়ে রইল,,তা দেখে লিজা রেগে বলে উঠল
লিজা-- আউচ্,, আহ্,, ইউ ব্লাডি বিচ,, তোমার সাহস কি করে হলো আমাকে ফেলে দেওয়ার,, তোমাকে আমি দেখে নিবো,,
--কোয়েল সেদিকে পাত্তা না দিয়ে ভিতরে চলে গেল,, তারপর ফ্রাস্ট বেঞ্চে কোয়েল আর চাঁপা বসল,, আর সেকেন্ড বেঞ্চে অনু আর দোলন বসলো,, এদিকে নাতাশা আর অ্যানা মিলে লিজাকে ধরে শুভ্রদের কাছে নিয়ে যেতে লাগল,,
______________________
অর্ক--আচ্ছা শুভ্র কোলকাতায় এতো সুন্দর সুন্দর মেয়ে থাকতে তুই ওই ঢিলা প্লাজোর (লিজা)পিছনে কে পড়ে আছিস,,
আকাশ-- ওই চিপ্কু কে দেখলেই মুখের মধ্যে থেকে উটকি বেরিয়ে আসে,,
আরিয়ান-- তুই কি পাশ বলতো ওই চিপ্কুর মধ্যে,,
--ওদের কথা শুনে শুভ্র নিজের ফোন থেকে মুখ তুলে বললো
শুভ্র--কিছুই পাইনা,,
আকাশ--তাহলে কেনো ওর পিছনে পড়ে আছিস,,
শুভ্র--ওর পেছনে আমি পড়ে নেই তো,,ও আমার পিছনে পড়ে আছে,,
আরিয়ান-- তাহলে এতো চিপ্কা চিপ্কি করিস কেনো,,
শুভ্র-- আমি যাস্ট টাইম পাস করছি,, ওর সাথে শুধু কলেজেই দেখা হয়,, তাছাড়া ওর সাথে আমার কোন কন্টাক্ট নেই,,
অর্ক-- তোর কি মনে হয় ও তোকে এমনি এমনিই ছেড়ে দিবে,,
শুভ্র--ও ছাড়বে কি ছাড়বে না সেটা পড়ে দেখা যাবে,,
আরিয়ান-- তুই কি ওকেই,,
শুভ্র-- নট এট অল,,শুধু একবার আমি আমার মনের রাজকুমারী কে পেয়ে যায়,, তারপর (বাঁকা হাঁসি)
আকাশ--তুই যতোটা ভাবছিস ততটাও সহজ নয়,, তুই লিজাকে ছেড়ে দিচ্ছিস না কেনো,,
লিজা--শুভ্র বেইবি,,
--শুভ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই লিজার ডাক শুনে ওইদিকে তাকিয়ে দেখলো,, অ্যানা আর নাতাশা ওকে ধরে নিয়ে আসছে,,তা দেখে আকাশ বিড়বিড় করে আরিয়ান আর অর্ক কে বললো
আকাশ--এসছ গেছে ছিপকালি,, সব সময় শুধু চিপ্কু গামের মতো লেগে থাকে
অর্ক-- চুপ কর,, নয়তো শুনতে পেলে ন্যাকা কান্না জুড়ে দেবে,,
--লিজাকে দেখে শুভ্র তারাতারি করে ওর কাছে গিয়ে ওকে ধরে বললো
শুভ্র--হুয়াট হ্যাপেন্ড সুইটহার্ট,,
লিজা--ওই ব্যাহেঞ্জি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে,, আর আমি পড়ে গিয়ে আমার পায়ে ভিশন ব্যাথা পেয়েছি
--শুভ্র লিজাকে ধরে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বলে,,
শুভ্র--ওই ব্যাহেঞ্জি টা আবার কে,,
লিজা--আরে ওই যে,, সেদিন যাকে আমরা ভরা ক্যাম্পাসের মধ্যে,,
শুভ্র--ইয়াহ্,, আর কেই বা হতে পারে,, এইসব শুধু ওই থার্ড ক্লাস মেয়েটাই করতে পারে,, (রাগ নিয়ে)
লিজা--হুম শুভ্র বেইবি,, ওই মেয়েটা আমাকে ইচ্ছে করে ফেলে দিয়েছে,, তুমি ওকে কিছু বলবে না,,
--ওদের কথার মাঝেই আকাশ বলে উঠল
আকাশ--আমার মনে হয় না ও এইসব করতে পারে,,
--আকাশের কথা শুনে লিজা তেঁতে উঠে বললো
লিজা--তো তোমার কি মনে হয় আমি মিথ্যে বলছি,, আমার কথা বিশ্বাস না হলে তোমরা নাতাশা আর অ্যানা কে জিজ্ঞেস করো
শুভ্র--তার কোন প্রয়োজন নেই,, আই উইল ট্রাস্ট ইউ,,
--শুভ্রর কথায় লিজা গদগদ হয়ে বললো
লিজা-- আই লাভ ইউ বেইবি,,
--শুভ্র কিছু বললো না চুপ করে থাকলো,, তা দেখে লিজা বললো
লিজা--হুয়াট হ্যাপেন্ড শুভ্র বেইবি,, কি হলো তোমার কথা বলছো না কেন?
শুভ্র--নাথিং,, তুমি থাকো আমি আসছি,,
--বলেই শুভ্র ওখান থেকে চলে গেলো,, তা দেখে লিজা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো
লিজা--যতই পালাই পালাই করো না কেনো,, তোমাকে আমি আমার করেই ছাড়বো,, আর তোমার এই ইগনোরনেশ আমি আর টলারেট করতে পারছি না,, তুমি শুধুই আমার,, (মনে মনে)
________________________
--কোয়েল রা ক্লাসে বসে ক্লাস করছে,, ম্যাম বেশ কয়েকটা কোয়েশ্চেন করলো ওদের,, তার মধ্যে কোয়েল ৬ টা প্রশ্নের উত্তর দিলো,, দোলন ৩ টে প্রশ্নের উত্তর দিলো চাঁপা ও ৩ টে প্রশ্নের উত্তর দিলো অনু ৪ টে প্রশ্নের উত্তর দিলো,, আর দুটো ছেলে ২ টো প্রশ্নের উত্তর দিলো,, আর দুটো মেয়ে ১ টা ১টা প্রশ্নের উত্তর দিলো,, মোট কুড়ি টা প্রশ্ন করা হয়েছিল,, প্রত্যেকটা প্রশ্নে কোয়েল হাত তুলে ছিল দোলন, চাঁপা,অনুও প্রায় ১২ টা মতো পারতো,, ম্যাম কোয়েল কে বাহবা দিলো,, একে একে আরো দুটো ক্লাস হলো,, ক্লাস শেষে ওরা ক্যান্টিনে চলে গেলো কিছু খেতে,, ক্যান্টিনে গিয়ে হালকা পাতলা কিছু খাবার অর্ডার করলো,, ঠিক তখনি কোথা থেকে শুভ্র ও তার গ্যাঙ্গ এসে হাজির,, দোলন রা ওদের দেখে চুপ হয়ে গেল,, কোয়েল ও চুপ হয়ে গেল,, ওয়েটার এসে ওদের চারজন কে খাবার দিয়ে গেল,, ওরা সেগুলো খেতে লাগল,, খাওয়া শেষে বিল পে করে যেই বেরিয়ে যেতে যাবে ওমনি হঠাৎ কোয়েলের গাঁয়ে রঙিন জল এসে পড়লো,, তা দেখে সবাই হতভম্ব হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল,, কোয়েলের মুখ থেকে পা পর্যন্ত রং লেগে আছে,, দোলন রা তো মুখে হাত দিয়ে রেখেছে,, এবার কোয়েল নিজের ওরনা দিয়ে মুখটা মুছে শুভ্রর দিকে ফিরে দেখলো ওর হাতে রং ভর্তি বেলুনের বালতি,, ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে আছে,, তা দেখে কোয়েল রেগে কিছু বলতে নিবে তার পূর্বেই কিছু একটা মনে পড়তেই কোয়েল চুপ করে দোলন দের বলো,,
কোয়েল-- আমার সাথে একটু ওয়াশরুমে চল,,
--কোয়েলের কথায় দোলন চাঁপা তো অবাক,, কারণ অনু না যানলেও ওরা যানে কোয়েল কেমন,, ওকে এইভাবে চুপ করে থাকতে দেখে দোলন রা অবাক হয়ে গেল,,
কোয়েল-- তোরা কি যাবি নাকি আমি একাই চলে যাবো,,
দোলন-- আব,, হু, হ্য,হ্যা হ্যা চল চল,,
--বলেই কোয়েলের সাথে যেতে লাগল,,তা দেখে আকাশ বললো
আকাশ--ব্যাপার টা কি হলো,, মেয়েটা কিছু না বলেই চলে গেল,,
শুভ্র-- ভয় পেয়েছে মনে হয়,, সেইদিন এর কথা মনে আছে হয়তো,,
অর্ক-- আজকের এইটা কি তুই ঠিক করলি,,
আরিয়ান-- আজকের এই ঘটনার জন্য তোকে একদিন পস্তাতে হবে দেখিস,,
--আরিয়ানের কথা শুনে শুভ্র তাচ্ছিল্য হেঁসে বললো,,
শুভ্র-- প্রস্তাব তাও আবার আমি,, শুভ্র কখনো কোনো ব্যাপার নিয়ে পস্তায় না,,
--বলেই ওখান থেকে চলে গেলো,,
______________
-- কোয়েল ওয়াশরুমে গিয়ে নিজের মুখ থেকে স্কার্ফ আর চোখ থেকে চশমা খুলে পাশে রেখে চোখে মুখে জলের ছিটে দিতে লাগল নিজের রাগকে কন্ট্রোল করার জন্য,, তারপর আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে দেখতে ভাবতে লাগল,, সেদিন ঘটনার পর কোয়েল চুপচাপ ঘরের মধ্যে বসে ছিল,, এমন কি রাতে খাওয়া দাওয়া ও করে নি,, হঠাৎ প্রাণচ্ছল মেয়েটাকে শান্ত হয়ে যেতে দেখে সবাই ঘাবড়ে যায়,, কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলে
কোয়েল-- কিছু হয়নি আমার এমনিই ভালো লাগছে না,,
-- এই বলে কাটিয়ে দেয়,, কিন্তু রাতে যখন ওর বাবা ওর ঘরে গিয়ে দেখে চুপচাপ বালিশে মুখ গুজে শুয়ে আছে,, তখন ওর বাবা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে
অখিলেশ বাবু-- কি হয়েছে আমার মা টার,, আমাকেও কি বলবে না যে কি হয়েছে আমার মায়ের,,
-- বাবার আদর পেয়ে কোয়েল বাবাকে জড়িয়ে ধরে সব বলে দিলো,, তা শুনে ওর বাবা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল
অখিলেশ বাবু-- দেখো সোনা মা,, তোমাকে আগেও বলেছি এখনোও বলছি,, সবাই তোমাকে পিছনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করবে,, কিন্তু তোমাকে পিছিয়ে পড়লে চলবে না,, এই যে কলেজের প্রথম দিনই তুমি এমন কিছু করে বসলে যার জন্য তোমার পরবর্তী দিন গুলো কঠিন হয়ে পড়বে,, ওরা তো চাইবে তুমি পিছিয়ে যাও,, ওরা যা করার করে নিক,, তুমি নিজের মতো থাকো,, তুমি চুপ থাকলে দুই দিন পর ওরাও চুপ হয়ে যাবে,, আর তুমি ওদের সাথে তর্ক করলে ওরা আরো তোমার উপর চড়ে বসবে,,তাই বলছি,, কে কি করলো বা বললো তা তুমি কানে নিবে না,, তোমার শুধু একটাই লক্ষ্য ভালো করে পড়াশোনা করা,, নিজের সাফল্যে এগিয়ে যাওয়া,,
--বাবার কথা শুনে কোয়েল ওর বাবার দিকে তাকিয়ে বলল
কোয়েল-- কিন্তু আমি যে নিজের রাগ টাকে কন্ট্রোলে আনতে পারছিনা,, ওরা খুব খারাপ বা
অখিলেশ বাবু-- আচ্ছা তোমাকে আমি একটা কথা বলি মন দিয়ে শোন,, তোমার কি আর পাঁচটা মেয়ের মতো চলতে ইচ্ছে করে না,,
কোয়েল-- করে তো,,
অখিলেশ বাবু-- তাহলে তোমাকে আমি একটা প্রমিশ করছি,, যেদিন তুমি নিজের রাগকে কন্ট্রোল করে নিজের সাফল্যে এক ধাপ এগিয়ে যাবে সেইদিন আর তোমাকে এইভাবে চলাফেরা করতে হবে না,, সেদিন থেকে তুমি স্বাধীন,,
--এই বলে আকাশ বাবু চলে গেলেন,, আর কোয়েল ভাবতে লাগলো,,
___________________
--কোয়েল ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো দোলন রা সবাই দাঁড়িয়ে আছে,, কোয়েল নিজেকে ঠিক করে ওদের কাছে গেলো,,
অনু-- কিরে এখন ঠিক আছিস,,
কোয়েল-- হুম ঠিক আছি, এখন চল বাড়ি ফিরতে হবে,,
দোলন-- হুম চল,,
বলেই ওরা চারজন বেরিয়ে গেল বাড়ির উদ্দেশে
ক্রমশঃ
আমার গল্প হয়তো অনেক জায়গায় বানান ভুল আছে,, আবার এক লে
খার জায়গায় উল্টো লেখাও আছে,, দয়া করে কেও কিছু মনে করবেন না,, টাইপিং মিসটেক এর জন্য হয়েছে, আমি গল্প লেখার পরে আর রিচেক করি না,,
Write a comment ...