এইদিকে,, কোয়েল, দোলন আর চাঁপা মিলে ওই মেয়ে টাকে ধরে ক্যান্টিনে নিয়ে এসে ওকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিলো,, চাঁপা দৌড়ে গিয়ে জল নিয়ে এসে মেয়েটাকে দিলো,,
কোয়েল--এখন কেমন লাগছে,, ঠিক আছো তুমি?
মেয়েটা--হুম ঠিক আছি,, আর ধন্যবাদ আমাকে হেল্প করার জন্য
--মেয়েটার কথা কোয়েল মুচকি হাসলো,,
কোয়েল--আরে ধন্যবাদ দিতে হবে না,, আচ্ছা তোমার নাম কি,,
--কোয়েলের কথায় মেয়েটি মুচকি হেসে বলল
মেয়েটি--আমার নাম অনু,, আমি এবার first year এর স্টুডেন্ট,, আর তোমাদের নাম কি,,
কোয়েল--আমি কোয়েল,, আর এ হচ্ছে দোলন-চাঁপা আমার ফ্রেন্ড,, আমরাও ফ্রাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট,,
অনু--তাহলে তো খুব ভালো কথা,, আমিও সেম ক্লাস আর তোমরাও,,
কোয়েল--আজ থেকে তাহলে আমরা ফ্রেন্ড,,
অনু--অবস্যয়,, তাহলে এখন আর তুমি করে বলবি না,, তুই করে বলবি,,
চাঁপা--আচ্ছা,, তোমাকে যে ওই মেয়েটা ওইভাবে হার্ট করছিল,, তুমি কিছু বললে না কেনো,,
অনু-- আরে আচমকা ওই পাগল টা এসে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো,, আর কোয়েল তুই কিন্তু এবার থেকে সাবধানে থাকবি,, ওরা কিন্তু ভালো নয়,, বিশেষ করে ওই মেয়েটা,, কি যেন নাম,, ওওও হ্যা লিজা,,
কোয়েল-- ওই চিজ দেওয়া পিজ্জা আমার কিছু করতে পারবে না,,
অনু-- হুয়াট চিজ দেওয়া পিজ্জা,, তুমি ওই লিজা কে চিজ দেওয়া পিজ্জা বলছো( হেঁসে দিয়ে)
কোয়েল--আমার মনে যা আসলো তাইই তো বললাম,,
দোলন-- হ্যা রে কোয়েল তুই যে এমন একটা কান্ড করলি,, যদি ওরা তোর কোনো ক্ষতি করে দেয় তখন,,
কোয়েল--ধুর ওরা কিচ্ছু করতে পারবে না,, তুই খামখা চিন্তা করছিস,,
চাঁপা-- তাও আমার না খুব ভয় করছে রে,, যদি উল্টো পাল্টা কিছু করে তখন,,
কোয়েল--আরে আমি আছি তো,, নো টেনসন ডু ফুর্তি,, চিল ইয়ার,,
দোলন--আচ্ছা তাহলে এবার চল বাড়ি ফিরতে হবে,, নাহলে ট্রেন মিস করে যাবো,,
চাঁপা-- আচ্ছা আচ্ছা চল চল, এই অনু তোর বাড়ি কোথায়,,
অনু--কোলকাতাতেই আমার বাড়ি,যাওয়া আসা করতে ২০ মিনিট সময় লাগে রে,,
দোলন-- ওও আচ্ছা তাহলে আর কি,, চল তাহলে একসাথেই বেরোই,, আমরা এখান থেকে সোজা রেলস্টেশনে যাবো,,
অনু-- আচ্ছা চল,,
--তারপর ওরা চারজনেই বেরিয়ে পড়লো,, বাড়ির উদ্দেশ্যে,, এইদিকে,,
____________________
লিজা--শুভ্র বেইবি,, (ন্যাকা করে) তুমি যখন ছিলেনা,, তখন যানো কি হয়েছিল,,
শুভ্র--কি হয়েছিল সুইটহার্ট,, না বললে আমি বুঝবো কি করে,,
--এবার লিজা ন্যাকা কান্না করতে করতে বললো
লিজা--ওই ব্যাহেঞ্জি টাইপ মেয়েটা আমাকে সবার সামনে ইনসাল্ট করেছে,,আমি খুব হার্ট হয়েছি,, (ন্যাকা কান্না করে)
শুভ্র--হুয়াট,, কার এতো বড় সাহস,, আমার সুইটহার্ট কে হার্ট করেছে,,
লিজা--শুধু তাই নয়,, আমার হাতও মুচড়ে দিয়েছে এই দেখো,, (ন্যাকা কান্না করে)
--নিজের হাত দেখিয়ে,, শুভ্র হাত এর দিকে তাকিয়ে দেখলো লাল লাল দাগ আছে,, শুভ্র হাতটা ধরে বললো
শুভ্র--তোমাকে হার্ট করার ফল ওই মেয়েকে এর চরম শাস্তি পেতে হবে,,কালকে ওই মেয়ে বুঝতে আমার সুইটহার্ট কে হার্ট করার ফল,, কালকের জন্য রেডি হয়ে নাও,, মিস ব্যাহেঞ্জি,, (বাঁকা হাঁসি দিয়ে)
--বলেই শুভ্র ওখান থেকে চলে গেলো আর তা দেখে লিজা বাঁকা হেসে বলল,,
লিজা--এবার কোথায় যাবে মিস ব্যাহেঞ্জি,, আমি বলেছিলাম না যে তোমার লাইফ আমি হেল করে দিবো,, ইউও টাইম স্টার্ট নাউ (বাঁকা হাঁসি দিয়ে)
_________________________
অন্য দিকে কোয়েল বাড়ি ফিরে ফ্রেস হয়ে নিজের ড্রেস চেঞ্জ করে একটা লেডিস টি-শার্ট আর স্কার্ট পড়ে নিলো,, তারপর তেলের বোতল নিয়ে গেলো ওর ঠাম্মি কমলা দেবীর ঘরে,, গিয়ে দেখলো ওর ঠাম্মি একটা ছোট্ট টুলের উপর দাঁড়িয়ে আলমারির উপর থেকে কিছু একটা পাড়ছে,, কোয়েল তারাতারি গিয়ে ওর ঠাম্মির হাত ধরে বললো
কোয়েল--আরে রে,রে,রে ঠাম কি করছো তুমি,, নিচে নেমে এসো,,
ঠাম্মি--আরে দিদি ভাই,, কি করছো তুমি,,আমাকে আমার পানের কৌটা টা পাড়তে দাও,,
কোয়েল--পানের কৌটা ওইখানে গেলো কি করে,,
ঠাম্মিস--আর বলো না,, আয়ুশ দাদুভাই আর অভি দাদুভাই মিলে আমার সব পান নষ্ট করে দিয়েছিল তাই ওইখানে তুলে রেখেছিল বৌমা,,
কোয়েল--আচ্ছা তুমি নিচে নেমে এসো আমি পেড়ে দিচ্ছি,, বুড়ো বয়সে,, তোমার এইসব মানায় নাকি,, (মুখ টিপে হেঁসে)
--কোয়েলের কথা শুনে কমলা দেবী নিচে নেমে এসে কোয়েলের কান চেপে ধরে বললো
ঠাম্মি-- কি বললে তুমি আমাকে বুড়ি!
কোয়েল--আহ্ ঠাম লাগছে তো,, প্লিজ ছাড়ো,,
ঠাম্মি-- আর বলবে তাহলে,, তুমি যানো আমাকে পাওয়ার জন্য তোমার দাদুভাই কতো লড়াই করেছিলেন,,
কোয়েল--আচ্ছা আচ্ছা আর বলবো না,, এবার কান টা ছাড়ো,,
--বলতে বলতেই কমলা দেবী কোয়েলের কান টা ছেড়ে দিলো,, কোয়েল ও মুচকি হেসে টুলটার উপরে দাঁড়িয়ে আলমারির উপর থেকে পানদানি টা পেরে ওর ঠাম্মির হাতে দিয়ে যেই নামতে যাবে ওমনি হাত লেগে, উপরে থাকা একটা সবুজ রঙের কৌটা টা সোজা গিয়ে কোয়েল এর মাথার উপর এসে পড়ে,, কোয়েল তো থ হয়ে দাঁড়িয় থাকে আওয়াজ পেয়ে,, ওর মা বাবা আর আয়ুশ দৌড়ে রুমে এসে এই অবস্থা দেখে প্রথমে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে,, আর ওর ঠাম্মির ও একই অবস্থা,, হঠাৎ কোয়েল এর এই অবস্থা দেখে সবাই হাসতে শুরু করে,, কারন রং পুরো কোয়েল মাথা থেকে শুরু করে মুখ হাত সব ভরে গেছে,, কোয়েল ও প্রথমে ঠোঁট ফুলিয়ে তাকিয়ে থাকে ওদের দিকে তারপর ফিক করে হেসে দেয়,, বেশ কিছুক্ষণ হাসা হাসির পর সবাই থেমে যায়,, কোয়েলের মা এসে কোয়েল কে বলে,,
অন্তরা দেবী-- যা গিয়ে তারাতারি স্নান করে নে,, আর আজকে তো মনে হয় না যে এই রং উঠবে,, যা তারাতারি,,
--কোয়েল ও দৌড়ে উপরে চলে গেল নিজের রুমে,, আসলে কোয়েল দের বাড়ি টা ডুপ্লেক্স বাড়ি,, উপরে তিনটে ঘর,, একটা কোয়েলের জন্য আর একটা আয়ুশের জন্য,, আর একটা গেস্ট রুম,, আর সাথে লিভিং রুম ও আছে,, তিনটে ঘরেই ওয়াশরুম করা,, শুধু কোয়েলের রুমেই একটা বেশ বড়ো দেখে বারান্দা করা আছে,, কোয়েলেরই প্ল্যানিং এটা,, কারণ বারান্দায় সুন্দর সুন্দর ফুল গাছ লাগানো টবে করে,, নিচেও তিনটে ঘর আছে,, একটা ওর বাবা মায়ের আর একটা ওর ঠাম্মা দাদুর,, আর একটা রেস্ট নেওয়ার জন্য আলাদা রুম,, ড্রয়িং রুম আছে,, কিচেন আছে,, আর একটা ছোট্ট গ্যারেজ আছে, যেখানে কোয়েলের স্কুটি আর ২টো সাইকেল রাখা,, কোয়েল নিজের ঘরে গিয়ে তারাতারি করে ওয়াশরুমে গিয়ে ভালো করে স্নান করে নেই,, চুলে একটা টাওয়েল জড়িয়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখে,, পুরো মুখে সবুজ রং এর আভা,, দুই গাল ফুলে আরো বিচ্ছিরি লাগছে,, কোয়েল নিজের গালে হাত দিয়ে দেখলো, কেমন খসখস করছে,,
কোয়েল--কি লাগছে রে তোকে কোয়েল,,তোকে তো চেনাই যাচ্ছেনা,, রণাক স্যার যদি কালকে তোকে এই অবস্থায় দেখে তো কি হবে বলতো,, ( দুঃখি দুঃখি ভাব নিয়ে) কি আর হবে ভয়ে ওখানেই জ্ঞান হারাবে,, (হাসতে হাসতে)
-- হাসতে হাসতে কোয়েল নিচে গেলো গিয়ে দেখলো,, ওর বাবা,ভাই, আর দাদু বসে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখছে,, আর ওর মুড়ি আর চপ নিয়ে এসে টি-টেবিলের উপর রেখে যেই রান্না ঘরে যেতে যাবে তখনি কোয়েল কে দেখে বললো,,
অন্তরা দেবী-- ওই তো কোয়েল এসে পড়েছে, বলছি যে মা শোন না,, তুই একটু তোর অভি দের বাড়ি গিয়ে এই আচারের বয়াম টা দিয়ে আসতে পারবি,,
--আচারের কথা শুনে কোয়েল লাফিয়ে উঠলো,,
কোয়েল--মা সত্যি! তুমি আচার করেছো,,
অন্তরা দেবী--হুম,, তেঁতুলের আচার করেছি,, তোমার ঠাম মধুপুর থেকে আসার সময় তেঁতুল নিয়ে এসেছিল,, তাই দিয়েই আচার করেছি,, তুই এইগুলা অভিদের বাড়ি আর অনিক দের বাড়ি দিয়ে আই,, যা,,
কোয়েল-- আচ্ছা দাও তাহলে গিয়ে দিয়ে আসি,,
-- অন্তরা দেবী দুই বয়াম আচার একটা ব্যাগে ভরে কোয়েলের হাতে দিয়ে দিলো,, কোয়েল ও লক্ষ্মী মেয়ের মতো গায়ে একটা স্কার্ফ জড়িয়ে বেরিয়ে পড়লো,, প্রথমে অভি দের বাড়ি গেলো,, তারপর অনিক দের বাড়ি গিয়ে দিয়ে তারাতারি বেরিয়ে পড়লো,, কারণ প্রায় ৮টা বেজে গেছে,, কোয়েল তারাতারি হাঁটতে শুরু করে,, হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই কোয়েলের সামনে একটা গাড়ি জোরে ব্রেক কষে,, আরেক হলে গাড়িটা কোয়েল কে ধাক্কা দিতো,, কোয়েল তো রেগে বোম,, কোয়েল রেগে গিয়ে গাড়ির সামনে গিয়ে লোকটা কে বলতে লাগলো
কোয়েল--এই বেয়াদপ লোক,, দেখে গাড়ি চালাতে পারেন না,, রাস্তা টা কি আপনার দাদুর কেনা,, মদ খেয়ে রাতের বেলা মাতলামি করতে বেরিয়েছেন হ্যা,, (রেগে কোমড়ে দুই হাত দিয়ে)
--কোয়েলের কথা শুনে সামনের ড্রাইভিং সিট থেকে একজন হ্যান্ডসাম ছেলে বেরিয়ে আসলো,, কিন্তু সেদিকে কোন খেয়ালই নেই কোয়েলের সেতো নিজের রাগ ঝাড়তে ব্যাস্ত,, লোকটা কোয়েলের মুখের সামনে এসে দাড়িয়ে প্রচন্ড রেগে বললো
শুভ্র-- হুয়াট দ্যা এই স্টুপিড গার্ল,, নিজের কথা সংযত করো,, তুমি যানো আমি কে
--শুভ্রর কথা শুনে কোয়েল আরো রেগে গিয়ে বলতে লাগলো,,
কোয়েল--রাস্তা টা কি আপনার বাবার সম্পত্তি পেয়েছেন যে রাত-দুপুরে মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন,,
শুভ্র-- হাউ ডেয়ার ইউ,, তোমার সাহস কি করে হয়,, আমার সাথে এইভাবে কথা বলার তুমি ভাবতেও পারছো না যে আমি তোমার কি হাল করতে পারি,,
কোয়েল--এইসব শুঁকনো ধমকি আমাকে দিতে আসবেন না,, আমি আপনার এইসব ধমকিতে ভয় পায় না,, যতসব,, অসহ্য লোক একটা,,
--বলেই কোয়েল ওখান থেকে বেরিয়ে গেল,, আর শুভ্র রাগ নিয়ে কোয়েলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলো,, কেনো জানেনা শুভ্র কিন্তু ওর বুকের ভেতরে ধকধক করছে,, ঠিক তখনি লিজা গাড়ির ফ্রন্ট সিট থেকে বেরিয়ে এসে শুভ্র কে বলল
লিজা-- হুয়াট আর ইউ ডুয়িং শুভ্র বেইবি,, ওই মেয়েটা তোমাকে এতো কথা বলল আর তুমি চুপকরে শুনলে,, আমি হলে তো ওই মেয়েকে,,,
শুভ্র-- ইট্স ওকে সুইটহার্ট,, এমনিতেই অনেক লেইট হয়ে গেছে,, লেট্স গো,,
লিজা--ইয়াহ্ লেট্স গো,,
--বলে দুজনেই গাড়িতে উঠে চলে গেল,,
__________________
সকালে,, কোয়েল কলেজ যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে,, আজকে দোলন-চাঁপা কলেজ যাবে না,, তাই কোয়েল কে একাই যেতে হবে কলেজ,, কোয়েল সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার জন্য চা বানালো তারপর,, রান্নার কাজে ওর মাকে হেল্প করতে লাগলো,, তরকারি কেঁটে ধুয়ে সব এক যায়গায় করে ওর মাকে দিলো,, তারপর নিজে গিয়ে স্নান করে নিলো,, আজকে একটা সাদা রঙের কুর্তি আর কালো রঙের স্কার্ফ মুখে জড়িয়ে নিচে নেমে আসলো,, তারপর খাবার খেয়ে সবার থেকে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো কলেজের উদ্দেশ্যে,, কলেজে পৌঁছে অনুকে ফোন করলো,, তারপর নিজের ক্লাসে চলে গেলো,, ক্লাসে গিয়ে সামনের বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়লো,, কিছুক্ষণ পর অনুও এসে ওর পাশে বসে পড়লো,,
অনু-- কেমন আছিস তুই,,
কোয়েল--এইতো ভালোই আছি,,
অনু--আচ্ছা কোয়েল তোকে একটা প্রশ্ন করবো করবো করে করা হয়নি,,
কোয়েল-- কি প্রশ্ন বল না?
অনু-- তুই তো এতো কিউট দেখতে,, তাও এমন চোখ মুখ ঢেকে কলেজ আসিস কেনো বলতো,,
কোয়েল-- সে অনেক কাহিনী আছে একদিন সময় করে বলবো নি,, এখন তুই বলতো যে আসতে এতো লেইট হলো কেনো,,
অনু-- আরে কোলকাতার জ্যাম বুঝতেই পারছিস,, নিউটাউন থেকে এখানে আসতে প্রায় ৩০ মিনিটের বেশি লাগে,, তার উপর এই জ্যাম ছাড়তেই চাইনা, কি বিরক্তিকর ব্যাপার,, আচ্ছা তোর বাবা কি করেন রে,,
কোয়েল-- আমার বাবা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক,,আর তোর বাবা কি করেন,,
অনু-- আমার বাবা কোলকাতার সিনিয়র পুলিশ অফিসার,,
কোয়েল-- কি বলিস,, এতো বড়ো পুলিশ অফিসার,,
অনু-- হুম মহারানী,, আচ্ছা আজকে প্রথম ক্লাস তো রণাক স্যার এর তাই না,,
কোয়েল-- হুম রে,, আমি না খুব একসাইটেড,, রণাক স্যার এর ক্লাস করতে আমার খুব ভালো লাগে,, কি সুন্দর তার ব্যাবহার,,
অনু--- ওওহোওহ্ তাই বুঝি,, তা ক্রাস ট্রাস খেয়ে ফেললি নাকি,,
কোয়েল-- আরে না না,, ওইসব ক্রাস নামক বাঁ/শ কোয়েল খাই না,,
অনু-- সেটা তো পরেই দেখা যাবে,,
কোয়েল-- বেশি করে দেখিস,, দেখতে দেখতে শহীদ হয়ে যাস,,
অনু--এইসব কথা কোথায় যে পাস তুই,,
কোয়েল--আমার এই খ/প/ড়ি থেকে,,
--বলেই দুজনেই হাসতে লাগলো,, কিছুক্ষণ পড়েই রণাক স্যার এসে ওদের পড়া ধরতে লাগলো,, ৩০ টা ছাত্র/ছাত্রীর মধ্যে,, ৭ জন ঠিক ভাবে পড়া করেছে,, বাকি সবাই মোটামুটি,, কোয়েল আর অনু সব প্রশ্নের উত্তর ঠিক ঠাক দিয়েছে,, বিশেষ করে কোয়েল,, প্রত্যেক টা প্রশ্নের উত্তর নির্দ্ধিধায় করছে,, এতে স্যার অনেক খুশিও হয়েছে,,
____________________
ক্লাস শেষে কোয়েল আর অনু মিলে ক্যান্টিনে গেলো কিছু খেতে,, দুজনেই হালকা পাতলা কিছু খাবার অর্ডার করলো,,
অনু--তুই টিউশনি নিস?
কোয়েল-- না,রে,, আমার বাবার বন্ধু আছে ওই আমাকে গাইড করে,,
অনু--তোর বাবার বন্ধু,, কে,,রে
কোয়েল-- সেটাআআ,, সিক্রেট পড়ে বলবো,,
অনু--বল না কি হবে বললে,,
কোয়েল--সময় আসুক অবস্যয় বলবো প্লিজ জোর করিস না,,
অনু--আচ্ছা ঠিক আছে যা বলতে হবে না,,
কোয়েল--বান্ধবী প্লিজ রাগ করিস না,,
--অনু মিথ্যে রাগ দেখিয়ে উল্টো দিকে ঘুরে গেলো,, আর কোয়েল ওকে মানানোর জন্য চেষ্টা করতে লাগলো,,,
অনু-- হয়েছে থাক আর নাটক করতে হবে না,, এবার চল খেয়ে নিই,, ক্লাস আছে,,
কোয়েল--হুম চল,,
--বলেই আবার যে যার চেয়ারে গিয়ে বসে পড়লো,, কোয়েল কেবল খাবার টা মুখে নিতে যাবে অমনি,, লিজা এসে খাবারের প্লেট টা টেনে ফেলে দিবো,, আচমকা এমন হওয়ায়,, অনু-কোয়েল দুজনেই ভরকে গিয়ে,, পাশে তাকাতেই দেখলো শুভ্র লিজা আর ওর গ্যাঙ্গ দাঁড়িয়ে আছে,, সাথে ক্যান্টিনের বাকি সবাই ও ওদের দিকে উৎসুক ভাবে তাকিয়ে আছে,,তা দেখে কোয়েল উঠে দাঁড়িয়ে বললো
কোয়েল-- এটা কি ধরনের অভদ্রতা,, আপনি এইভাবে খাবারের প্লেট টা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন কেনো,,
--কোয়েলের কথা শুনে লিজা জোরে জোরে হাসতে শুরু করলো,, তারপর বললো
লিজা-- কেবলমাত্র তো শুরু ডার্লিং আগে তোমার জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করছে,,তাই না শুভ্র বেইব
--এবার শুভ্র লিজার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বললো
শুভ্র-- ইয়াহ্ সুইটহার্ট,, সো মিস ব্যাহেঞ্জি,, তোমার সাহস দেখে তো আমি অবাক হয়ে গেছি,, তোমার সাহস কি করে হয় আমার সুইটহার্ট কে অপমান করার,,
কোয়েল--আমি কাওকে অপমান করিনি,, (নির্দ্ধিধায় বললো)
শুভ্র--হাউ ডেয়ার ইউ,, আমার মুখে মুখে কথা বলছো,, এখনি তুমি ওর কাছে ক্ষমা চাইবে,, রাইট নাউ,,
কোয়েল-- আমি কোনো অন্যায় করিনি যে আমি কারোও কাছে ক্ষমা চাইবো,,
--কোয়েলের কথায় লিজা ন্যাকা কান্না করে শুভ্রর গলা জড়িয়ে বলতে লাগলো,,
লিজা-- শুভ্র বেইবি,, এই মেয়েটার সাহস কতো বড়ো তোমার দিকে চোখ তুলে কথা বলছে,, (উস্কে দিয়ে)
--লিজার কথায় শুভ্র অগ্নি দৃষ্টি তে কোয়েলের দিকে তাকিয়ে বললো
শুভ্র-- রাইট নাউ যদি তুমি ক্ষমা না চাও তো তোমার লাইফ আমি হেল করে দেবো,, (রেগে)
অনু-- কোয়েল বলে দে স্যরি,, নাহলে কিন্তু ফেঁসে যাবো(ফিসফিস করে)
কোয়েল-- আমি বলবো না স্যরি,, আমি যেহেতু কোন অন্যায় করি নি,, তাই আমি কোনো স্যরিও বলবো না,,
--কোয়েলের কথায় শুভ্র আরো রেগে গেলো,, রেগে গিয়ে কোয়েলের এক হাতের বাহু ধরে বললো
শুভ্র-- তাহলে রেডি হয়ে নাও,, নিজের বেহাল দশা দেখার জন্য,,
--শুভ্রর কথায় অনু ভয়ে শুভ্রর কাছে গিয়ে বলতে লাগলো
অনু-- প্লিজ প্লিজ এমন করবেন না,, ওর হয়ে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি,,
--অনুর কথায় কোয়েল তেঁতে উঠে বললো
কোয়েল--একদম না অনু,, ভুল করেও এদের কাছে নিজের মাথা হেট করবি না,, কি করবেন করে নিন,, আমি তবুও হাড় মানবো না,,
শুভ্র--লেট্স সি,,
--বলেই পাশের টেবিল থেকে জলের জগ নিয়ে কোয়েলের মাথায় ঢেলে দিলো,, আচমকা এমন হওয়ায় কোয়েল ভড়কে গেরো আর অনু মুখে হাত চেপে ধরলো,, ক্যান্টিনের সবাই হু হু করে হাসতে লাগলো,, কোয়েলের পড়নে সাদা জামা হওয়ায় ভেতরের অনেকটাই বোঝা যাচ্ছে,, ওদের মধ্যে থেকে আকাশ শুভ্রর বন্ধু বলে উঠল,,
আকাশ--শুভ্র ছেড়ে দে মেয়েটাকে,,
অর্ক-- অনেক তো হলো এবার ছেড়ে দে,,
আরিয়ান--আঙ্কেল যানতে পারলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে,,
শুভ্র-- ওহ, যাস্ট শাট আপ ওকে,, কে কি করলো বা কি বললো,, আই ডোন্ট কেয়ার,,
--ওদের কথার মাঝেই লিজা এসে শুভ্র কে জড়িয়ে ওর গালে কিস করে বললো,,
লিজা--শুভ্র বেইবি,, ওদের কথা কানে নিয়ো না তো,, ভুলে যেওনা এই মেয়েটা তোমার সাথে কি করেছে,,
--লিজার কথায় শুভ্র এক হাত দিয়ে লিজার কোমড় জড়িয়ে ধরে ওর চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে দিতে দিতে বলল
শুভ্র--আই নো বেবি,,
--এদের এই অবস্থায় দেখে কোয়েল নিজের মুখ টা অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিল,, তা দেখে শুভ্র লিজা কে ছেড়ে দিয়ে কোয়েলের কাছে গিয়ে ওকে বলতে লাগলো,,
শুভ্র--বলেছিলাম না আমার সাথে লাগতে এসো না,,তাহলে এর ফল আরো ভয়ঙ্কর হ,,,
--কোয়েল আর নিজের রাগ কে সামলাতে পারলো না,, রেগে নিজের টেবিলের উপরে রাখা যগ টা তুলে শুভ্রর মুখে ছুঁড়ে মারলো,, তা দেখে ক্যান্টিনের সবার মুখে হাত,, শুভ্র নিজের মুখের জল বা হাতের তালু দিয়ে মুছে,, অগ্নি দৃষ্টি তে কোয়েলের দিকে তাকিয়ে কোয়েলের এক হাতের বাহু ধরে ওকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল,,
কোয়েল-- কি করছেন কি ছাড়ুন আমায়,, আপনার সাহস কি করে হয় আমাকে স্পর্শ করার,, ছাড়ুন আমাকে (নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করে)
আকাশ--শুভ্র ছেড়ে দে মেয়েটাকে,,
অর্ক-- প্লিজ শুভ্র আঙ্কেল কিন্তু খুব রাগ করবে,,
-- কোয়েলের কাছে আসতেই আবার ওর বুকের ভিতর ধকধক করতে লাগলো,, কিন্তু শুভ্র সেদিকে পাত্তা না দিয়ে কোয়েল কে টেনে ক্যাম্পাসের মধ্যে নিয়ে যেতে লাগল,, সবাই ওদের দিকে উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে,, কোয়েল প্রাণপনে চেষ্টা করছে নিজেকে ছাড়ানোর কিন্তু পারছে না,, শুভ্র এবার ভরা ক্যাম্পাসের মধ্যে কোয়েল কে এক ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো,, আচমকাই ধাক্কা খেয়ে কোয়েল ব্যালেন্স রাখতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়লো,, অনু সাথে সাথে কোয়েলের কাছে গিয়ে ওকে টেনে তোলার চেষ্টা করলো,, অনুর চোখেও জল চিকচিক করছে,, অনু কোয়েল কে তুলতে যাবে অমনি অ্যানা আর নাতাশা এসে ওকে টেনে তুলে নিয়ে গেলো,,
অনু-- ছেড়ে দাও আমাকে,, কি করছো তোমরা,, শুভ্র দা প্লিজ ওকে ছেড়ে দিন,, ওর হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি,, (কাঁদতে কাঁদতে)
--অনুর কথায় পাত্তা না দিয়ে শুভ্র কোয়েল সামনে এক হাঁটু ভাঁজ করে বসে ওর গাল চেপে ধরে বলতে লাগলো
শুভ্র-- বলেছিলাম না আমার সাথে লাগতে আসবি না,, এবার দেখ কেমন লাগে
--শুভ্রর কথায় কোয়েল হেঁসে দিয়ে বললো
কোয়েল-- ওইটাই তো পারেন,, আর কি বা করার আছে আপনার,, লজ্জা করে না একটা ছেলে হয়ে মেয়ের গায়ে হাত দিচ্ছেন,, আপনার তো ছেলে হওয়ার কোন জগ্যতাই নেই,, কাপুরুষ আপনি,, (তাচ্ছিল্য করে)
--কোয়েলের কথা শুনে শুভ্র রেগে গিয়ে ওর গাল ছেড়ে বললো
শুভ্র-- কি বললি তুই আমাকে,, আমি কাপুরুষ,, আচ্ছা যা তোকে আমি কিছু বলবো না,, সুইটহার্ট,, (উঠে দাঁড়িয়ে) বেইব এইদিকে এসো তো,,
--শুভ্রর কথায় লিজা নাচতে নাচতে ওর সামনে এসে বললো
লিজা-- ইয়েস বেইবি বলো
শুভ্র-- এই ব্যাহেঞ্জিকে আমি তোমার হাতে হ্যান্ডোভার করে দিলাম যা ইচ্ছে করো যাও,,
--বলেই শুভ্র পাশে গিয়ে হাত গুটিয়ে বসলো আর লিজা কোয়েলের কাছে গিয়ে ওর চুলের মুঠি ধরে বললো
লিজা--বলেছিলাম না আমাকে অপমান করার ফল তোকে ভোগ করতে হবে,, কালকে তোর এমন অবস্থা করবো যে তুই সারা জীবন মনে রাখবি,,
-- বলেই একটানে কোয়েলের মুখ ঢেকে রাখা স্কার্ফ টা খুলে ফেললো,, খুলে নিজেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো,, এ কাকে দেখছে লিজা,, লিজার সাথে সাথে বাকি সবাই ও হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল কোয়েলের দিকে,, তারপর হঠাৎ সবাই হো হো করে হাসতে লাগলো,, লিজা তো হাসতে হাসতে শেষ,,
লিজা--শুভ্র বেইবি দেখে যাও,, এ তো শুধু ব্যাহেঞ্জিই না,, দেখতে তো পুরো ডাইনিদের মতো,, হাহাহাহ্ ওয়েট ওয়েট শুভ্র বেইবি,, এই মেয়েটাই তো কালকের ওই মেয়েটা না,, যে মেয়েটা রাস্তায় তোমাকে ইন্সাল্ট করেছিল,,
--লিজার কথায় শুভ্র ভালো করে দেখে বললো
শুভ্র--ইয়াহ্ এই মেয়েটাই সেই মে যে আমাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপমান করেছিল,, তো মিস ব্যাহেঞ্জি,, তোমার তো আরো একটা পানিশমেন্ট পাওয়া বাকি আছে,, তো কি পানিশমেন্ট দেওয়া যায় বলো তো,, হুমম,, আচ্ছা লিজা বেইবি তুমিই বলো কি করা যায়,,
লিজা-- একে আমার হাতে ছেড়ে দাও এর আমি এমন অবস্থা করবো যে,,, হুহ্,, এই নাতাশা যা গিয়ে একটা কাঁচি নিয়ে আই,, এর এতো বড়ো বড়ো চুল আমার সহ্য হচ্ছে না,,
নাতাশা-- এখনি আনছি,,
--নাতাশা দৌড়ে একটা কাঁচি নিয়ে এসে লিজার হাতে দিলো,, লিজা একহাতে কাঁচি আর এক হাতে কোয়েলের বিনুনি করা চুল ধরে কোয়েলের উদ্দেশ্যে বললো,,
লিজা-- চ,চ,চ,চ, এখন বড্ড আফসোস হচ্ছে তাইনা,, যে কেনো ওদের সাথে লাগতে গেলাম,,
--লিজার কথায় কোয়েল মুচকি হেসে বলল
কোয়েল-- হচ্ছে তো আফসোস, কিন্তু এই কারণে না,, আফসোস হচ্ছে,, আপনাদের মতো একটা কিট এই কলেজের ভর্তি হয়ে,, কলেজের রেপুটেশন নষ্ট করছে,,
--কোয়েলের কথায় লিজা রেগে ওই কাঁচি দিয়ে কোয়েলের মুখ বরাবর মারলো যার ফলে কোয়েলের ঠোঁটের কোনা কেঁটে হালকা রক্ত বেরতে শুরু করলো,,
লিজা-- খুব সাহস না তোর,, এবার তুই দেখ তোর কি হাল করি আমি,,
--বলেই কোয়েলের বিনুনি ধরে যেই কাটতে যাবে ওমনি ওখানে রণাক স্যার এসে বললো
রণাক-- কি হচ্ছে কি এখানে,,
--বলতে না বলতেই কোয়েলদের লক্ষ্য করলো,, সঙ্গে সঙ্গে ওখানে ছুঁটে গিয়ে লিজার হাত থেকে কাঁচি টা কেড়ে ফেলে দিলো,,
রণাক-- তোমরা আবার ragging করা শুরু করে দিয়েছো,, এবার তোমাদের নামে complain প্রিন্সিপাল স্যার কে করতেই হবে,,
লিজা--দেখুন স্যার আপনি আমাদের মধ্যে আসবেন না,,
রণাক--শাট আপ,, এতো কান্ড করে আবার আমার মুখে মুখে কথা বলছো,, আর এই যে শুভ্র তুমিও এদের এইসব কাজে সামিল তাই তো,, তোমার বাবা এই কলেজের ওনার বলে কি যা ইচ্ছে তাই করবে নাকি,, আজই আমি প্রিন্সিপাল স্যার কে সব বলছি,,
--রণাক এর কথায় শুভ্র ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে শিস,, বাজাতে বাজাতে চলে গেলো,, তা দেখে রণাক লিজা সহ বাকি সবাই কে উদ্দেশ্য করে বললো
রণাক-- সবাই যে যার ক্লাসে যাও,, আর এক সেকেন্ডও আমি তোমাদের কাউকে এখানে দেখতে চাইনা,, আর অনু তুমি কোয়েল কে নিয়ে আমার কেবিনে আসো,, ফ্রাস্ট আর এই যে লিজা তোমাকে আমি এর আগেও ওয়ানিং দিয়েছিলাম,,
--লিজা রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেল,, অনু দৌড়ে এসে কোয়েল কে ধরে তুলল,, তারপর ওকে নিয়ে রণাক এর পিছনে যেতে লাগল,,
______________________
কেবিনে গিয়ে কোয়েল কে একটা চেয়ারে বসিয়ে রণাক ঠোঁটে ঔষধ লাগাতে লাগলো,, তা দেখে অনু তো মুখে হাত দিয়ে দিলো,,
রণাক-- তোমাকে কতবার বলেছি মিষ্টি যে তুমি এইসব ঝামেলাই জড়াবে না,, আঙ্কেল আন্টি জানলে কতো কষ্ট পাবে তুমি যানো,,
কোয়েল--উফ রণ দা তুমি প্লিজ মা,বাবাই কে কিছু বলবে না প্লিজ,,
--ওদের কথা শুনে অনু তো আকাশ থেকে পড়লো,, তাহলে কি এই সেই ছেলে যে কোয়েল কে গার্ড দেয় পড়ার বিষয়ে আবার হয়তো ভবিষ্যতে এই কোয়েলের লাইফ পার্টনার হতে পারে,,
রণাক--চলো তোমাদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি,,
কোয়েল-- তুমি এখন বর্ধমান যাবে,, এতোদূর,,
রণাক-- আরে পাগলি তুমি কি ভুলে যাচ্ছো যে আজকে মা, বাবা সবাই তোমাদের বাড়ি গিয়েছে,, আর আমাকেও আসার পথে তোমাকে নিয়ে আসতে বলেছে,,
কোয়েল--স্যরি আমি তো ভুলেই গিয়েছি,, আচ্ছা চলো,,
রণাক--ওয়েট আগে তুমি গিয়ে বাইরে ওয়েট করো তারপর আমি যাচ্ছি,, নাহলে সবাই সব যেনে যাবে,,
কোয়েল-- আচ্ছা ঠিক আছে,, এই অনু চল,,
অনু-- হহ,,হুহ হ্যা্
--এতোক্ষণ অনু সং ধরে দাঁড়িয়ে ওদের কে দেখছিল,, হঠাৎ কোয়েলের কথায় সম্বিত ফিরে পাই,,
কোয়েল-- তোর আবার কি হলো চল বাড়ি যাই,,
অনু--আমার বাড়ি তো উল্টো সাইডে,, তুই যা আমি যেতে পারব,,
রণাক--কোনো ব্যাপার না আমি তোমাকে তোমার বাড়িতে ড্রপ করে দিব,, চলো দেখি,,
অনু-- আরে না স্যার তার কোনো দরকা,,
কোয়েল-- তুই চুপচাপ চল তো বেশি বকবি না,,
--বলেই অনু কে টেনে নিয়ে যেতে লাগল,, বাইরে এসে রণাক এর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো,,
অনু--তাহলে এটাই তোর সেই রণ দা,, তাই তো
কোয়েল--হুম (মুচকি হেসে)
অনু-- তাহলে আমাদের ক্রাস টিচার ই আমাদের হবু জিজু (দুষ্টু হেসে)
কোয়েল-- কিহহ্ (ভ্রু কুঁচকে)
অনু-- কি আবার কি যা সত্যিই তাই বললাম
কোয়েল-- তোকে আমি আগেই তো বলেছিলাম যে,, এটা শুধু আমাদের দুজনের মা,বাবাই চাই,, তাও আবার মনে মনে,, এখনো কেউ এই ব্যাপার নিয়ে কথা বলেনি,, তাছাড়া,, বাবাই আগেই বলে দিয়েছে,, যে আমার পড়াশোনা শেষ হলে এইসব নিয়ে ভাববে,, আর আমার মতামত ছাড়া কিছুই হবে না,,
অনু-- তাহলে তো একই কথা,, দেখ তুই ও রণাক স্যার কে লাইক করিস,, আর আজ তো রণাক স্যারের কথা শুনে মনে হলো স্যার ওওও,,
--ওদের কথার মাঝেই রণাক নিজের কার নিয়ে ওদের সামনে এসে দাঁড়ায়,, ওরা গাড়িতে উঠে পড়লো,, প্রথমে অনুকে ওর বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে তারপর আব
Write a comment ...