02

ভালোবাসা এতো অদ্ভুতও হয় ১

অন্তরা দেবী--সাবধানে যাস মা,, আর দেখে শুনে চলবি,,

কোয়েল--তুমি একদম চিন্তা করো না মামনি,, আমি ঠিক ভাবেই যাবো,,

--মিসেস অন্তরার কাছ থেকে সরে এসে এবার,, কোয়েল এবার অখিলেশ বাবু কাছে গিয়ে ওনাকে প্রণাম করে বললো,,

কোয়েল--আসি বাপি,,

--অখিলেশ বাবু মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,,

অখিলেশ বাবু--সাবধানে যাবে,, আর মন দিয়ে পড়াশোনা করবে,, তুমি যেন এইবারও গোটা কলেজের মধ্যে টপ রাঙ্কে থাকো,,

কোয়েল--অবস্যয় বাপি,, আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো,,

অখিলেশ বাবু--আমি যানি তুমি পারবে,,

অন্তরা দেবী--এতোদূর তুই একা কি ভাবে যাবি,,, কতো করে বললাম আশেপাশের কোন কলেজে এডমিশন নিতে,, কিন্তু তোরা তো আমার কথা শুনলি না,,

অখিলেশ বাবু--উফ অন্তরা,, তুমি আর শুরু করো না,, ও যেই কলেজে এডমিশন পেয়েছে সেটা আমাদের জেলার সবথেকে নামকরা কলেজ,, আর এই কলেজে সব নামীদামী স্টুডেন্ট রাই চান্স পাই না,, সেখানে তোমার মেয়ে চান্স পেয়েছে ভাবতে পারছো,,

অন্তরা দেবী--এই কথাতেই তো রাজি হলাম ওকে এতো দূরে ছাড়তে,, আচ্ছা মামনি তোমাকে একটা কথা বলে রাখছি,, ওখানে কোন গন্ডগোল করবে না,, কেউ কিছু বললে রেগে যাবে না,,নিজের রাগ টা কন্ট্রোলে রেখো

--মায়ের কথা শুনে কোয়েল ওনাকে জড়িয়ে ধরে বললো

কোয়েল--ওও মা,, তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছো,, আর আমি একা যাচ্ছি নাকি,, দোলন-চাঁপা ও তো যাচ্ছে সাথে,, ভয় পাচ্ছো কেন,,

অন্তরা দেবী--ভয় তো হবেই,, যদি আবার ওই মিশু গুন্ডা,,

--মিসেস অন্তরার কথা শেষ না করতে দিয়ে অখিলেশ বাবু বললো

অখিলেশ বাবু--আহ কি হচ্ছে অন্তরা,এমন একটা দিনে ওই রাস্কেল টার কথা বলো না তো,তুমি ভুলে যাচ্ছো এখন আমরা আর মধুপুরে নেই,আর তাই ও মামনির কিছু করতে পারবে না,,

--অখিলেশ বাবুর কথায় কোয়েল মুচকি হেসে এবার ওর ভাইয়ের কাছে গেলো,, গিয়ে বললো

কোয়েল--আয়ুশ ভাই আমার,, ফোন টা কি দিবি না,,

--আয়ুশ ফোন দেখতে দেখতে বললো

আয়ুশ--দি ভাই,আজকে ফোন না নিয়ে গেলে হয় না,,

--ভাইয়ের কথায় কোয়েল মুচকি হেসে বলল

কোয়েল--আজ না ভাই,কালকে থেকে নিজের কাছে রাখিস, আজ আমি প্রথম কলেজে যাচ্ছি,, কখন কি হয় তাই ফোন টা নিয়ে যায়,,

--দিদির কথায় আয়ুশ মুখ গোমড়া করে ফোন টা কোয়েলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল

আয়ুশ--আচ্ছা নাও,,

--কোয়েল ফোন টা হাতে নিয়ে ভাইয়ের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো,,

কোয়েল--মন খারাপ করে না ভাই,, আমি আসার সময় তোর জন্য চকলেট নিয়ে আসবো কেমন,,

--চকলেটের কথা শুনেই আয়ুশ দিদির গলা জড়িয়ে ধরে বললো

আয়ুশ--এত্তো গুলো লাভ ইউ দিভাই,,,

অখিলেশ বাবু--হয়েছে এবার দিভাই কে ছাড়ো,নাহলে তো বাস মিস হয়ে যাবে, আর কোয়েল, দোলন-চাঁপা কোথায় ওরা যাবেনা,,

--মায়ের কথায় কোয়েল আয়ুশ কে ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,,

কোয়েল--ওরা বেরিয়ে পড়েছে,, বাসস্টপে দেখা হচ্ছে,, আর ঠাম্মি কোথায় মামনি,,

অন্তরা দেবী--তোমার ঠাম্মি তো তোমার জেম্মাদের বাড়ি গিয়েছে,,

কোয়েল--ওও,,আচ্ছা অনিক দা কবে ফিরছে কিছু বলেছে নাকি,,

অন্তরা দেবী--তোমার জেম্মা কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বললো,ও নাকি এখনো ছুটি পাই নি,, পেলেই চলে আসবে,,

কোয়েল--এই হয়েছে এক জ্বালা,, আর্মির চাকরিতে ছুটিই পাওয়া যায় না,আচ্ছা আয়ুশ, তুই স্কুলে যাবি না,অভি তো সেই কখন থেকে বসে আছে,তুই রেডি হয়ে নে যাওয়ার পথে তোকে স্কুলের সামনে নামিয়ে দিবো,,

অন্তরা দেবী--আচ্ছা কোয়েল স্কুটি টা অদিতি দের বাড়িতে রেখে তারপর যাবি তো,,

কোয়েল--হ্যা মা এখান থেকে বাসস্টপে স্কুটি তে গিয়ে অদিতি দি দের বাড়িতে স্কুটি রেখে ওখান থেকে বাসে করে যাবো,,

অন্তরা দেবী--তাহলে তাই করিস,এখন যা,আর এই আয়ুশ তুই ও দিভাই এর সাথে যা,,

কোয়েল--আসছি মা,,

অন্তরা দেবী--এইভাবে যাবি তুই,,

--কোয়েলের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,কোয়েলের এবার খেয়াল হলো,কোয়েল দ্রুত ওর রুমে গিয়ে,একটা স্কার্ফ মাথা থেকে মুখ পর্যন্ত ঢেকে নিয়ে,চোখে গোল চশমা পড়ে নিলো,তারপর রুম থেকে বেরিয়ে এসে ওর মাকে জিজ্ঞাসা করল,,

কোয়েল--ধন্যবাদ মা, আমি একদমই ভুলে গিয়েছিলাম,,

অন্তরা দেবী--এই ভুল যেন আর না হয় মা,বাপি জানলে খুব রাগ করবে,

কোয়েল--অবস্যয়,,

অন্তরা দেবী--সাবধানে যাস,দূর্গা দূর্গা, (দুইহাত উপরে তুলে)

--বলেই কোয়েল ওর মাকে জড়িয়ে ধরলো,, তারপর কোয়েল আয়ুশের হাত ধরে ওকে বাইরে নিয়ে আসলো,, 

কোয়েল--তুই গিয়ে অভি কে নিয়ে আই,আমি স্কুটি টা বের করে নিয়ে আসি,,

--কোয়েলের কথায় আয়ুশ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো,কোয়েল গ্যারেজ থেকে ওর স্কুটি টা বের করে আয়ুশ আর অভির সামনে গিয়ে বললো উঠতে,, আয়ুশ তার ব্যাগ টা কাঁধে নিয়ে স্কুটির পিছনে বসে পড়লো অভিও তাই করলো,কোয়েল স্কুটি চালাতে লাগল,, প্রায় দশ মিনিট পর একটা মডেল স্কুলের সামনে এসে দাঁড়ালো,আয়ুশ আর অভি স্কুটি থেকে নেমে কোয়েল কে বললো

অভি-আয়ুশ--,আসছি দিভাই,,

--কোয়েল ও মুচকি হেসে বলল

কোয়েল--আচ্ছা সাবধানে থাকিস,,,

--দুজনেই মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে স্কুলের ভিতরে চলে গেল,কোয়েল ও ওর গন্তব্যে চলে গেল,এখন যেনে নেওয়া যাক,এই কোয়েলের আসল পরিচয়,কোয়েল সেন,বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে,বয়স ১৭ বছর ৮মাস ,দেখতে পরীর মত না হলেও,মায়াবী চেহারা,গাঁয়ের রং সাদা,চিকন নাক আর ঠোট,চোখ গুলো ছোট কিন্তু চোখের পাপড়ি গুলো বড় আর ঘন থাকায় আর চোখের মনি টা ব্রাউন্ড রং এর হওয়ায় দেখতে আকর্ষণীয় ও মায়াবী লাগে,থুতনিতে একটা ছোট্ট কালো তিল যা কাছ থেকে দেখলে বোঝা যাবে,, উচ্চতা ৫'৩ ইঞ্চি,,, কোমরের একটু নিচ পর্যন্ত ঘন চুল,,  চুল গুলো মাথা থেকে কাঁধ পর্যন্ত স্ট্রেট,, কিন্তু কাঁধের নিচ থেকে পুরোটা হালকা কোঁকড়ানো,, কোয়েলের ছোট্ট একটা ভাই আছে,, নাম আয়ুশ,, ক্লাস এইটে পড়ে,, বয়স তেরো,, দুই ভাই বোন মিলে সারাদিন দুষ্টুমি করে,,  কোয়েল এইবার mathmatics এ অনার্স নিয়ে কোলকাতার নামকরা কলেজে চান্স পেয়েছে, পড়াশোনায় মেধাবী,,স্কুলে সব সময় টপ রাঙ্কে থাকতো,, পড়াশোনার পাশাপাশি,, নাচ ও গান করতে খুব ভালোবাসে,, বাড়ির একটা মেয়ে হওয়ায়,, সবার চোখের মনি,, ওর জেম্মা লতা দেবী,, আর কাম্মা লাবণ্য দেবীর আদরের দুলালী,, কোয়েল রা আগে মধুপুরে থাকতো,, অখিলেশ বাবুর ট্রান্সফার হওয়ার ফলে ওরা এক বছর আগে বর্ধমানে এসেছে,, অখিলেশ বাবু  প্রায়মারি স্কুলের শিক্ষক,, অখিলেশ বাবুরা তিন ভাই এক বোন,,উনি সেজো,, ওনার বড়ো দাদার নাম অপরেশ সেন,, পেশাই একজন আর্মি অফিসার,, দুইবছর হয়েছে উনি অবসর নিয়েছেন,, ওনার একটাই ছেলে,, ছেলেটার নাম অনিক,, বয়স ছাব্বিশ,, সেও একজন আর্মি অফিসার,, অখিলেশ বাবুর ছোট ভাইয়ের নাম অনন্ত সেন,, পেশাই একজন ডাক্তার,, ওনার ও একটাই ছেলে নাম অভি,,সেও আয়ুশের সাথে একই ক্লাসে পড়ে,, অখিলেশ বাবুর বড়ো বোনের নাম,, আশা দেবী,, উনি একজন আউজওয়াইফ,, ওনার স্বামীর নিজস্ব ব্যাবসা আছে,, ওনার একটা ছেলে একটা মেয়ের আছে,, ওনার মেয়ের বয়স কুড়ি,, নাম কবিতা,,‌ওনার ছেলের নাম অর্ণব,, বয়স ছাব্বিশ,, আর বাকি সব পড়ে যানতে পারবেন,, এখন গল্পে ফেরা যাক,,

____________________

কোয়েল স্কুটি টা নিয়ে একটা দু-তলা বিশিষ্ট বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো তারপর স্কুটি থেকে নেমে বাড়ির ভেতরে  গিয়ে বললো

কোয়েল-- কাম্মা,, ও কাম্মা,,

--কোয়েলের ডাকে ভিতর থেকে একটা মহিলা বেরিয়ে আসলো,, এসেই বললো

অদিতির মা--হ্যা কোয়েল বল,,

কোয়েল--বলছি যে স্কুটি টা রেখে গেলাম,,

অদিতির মা--আচ্ছা যা,,

কোয়েল-- অদিতি দি কোথায়

অদিতির মা-- ও তো কলেজে চলে গিয়েছে,, অনেকক্ষণ আগেই,,

কোয়েল-- ও অদিতি দি চলে গেছে,, আচ্ছা আমি তাহলে যাই হ্যা,, আসছি,,

অদিতির মা-- আচ্ছা যা সাবধানে যাস কেমন,,

কোয়েল-- আচ্ছা,,

-- বলেই কোয়েল বেরিয়ে গেল,, এই রুপা দেবী হচ্ছে,, কোয়েলের কাম্মার কাকার মেয়ে আর তার দুই মেয়ে বড় অদিতি,, বয়স বাইশ,, আর ছোট মেয়ে অন্নেষা,, বয়স পনেরো,, কোয়েল রুপা দেবীদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে হাঁটতে লাগলো,, এখান থেকে দুই মিনিট হাঁটলেই বাসস্টপ,, কোয়েল বাসস্টপের কাছে যেতেই দেখলো,, দুটো একই রকম দেখতে মেয়ে,, গাঁয়ের রং দুজনেরই হালকা শ্যামলা,, কোমড়ের নিচ পর্যন্ত চুল,, চোখে চশমা,, কাঁধে ব্যাগ,, কোয়েল বুঝতে পারলো দোলন-চাঁপা ওর জন্য দাঁড়িয়ে আছে,, কোয়েল ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,,

কোয়েল-- কি রে তোরা কখন এসেছিস,,

--কোয়েলের আওয়াজ পেরে দোলন-চাঁপা কোয়েলের দিকে তাকালো কোয়েল একটা সবুজ রঙের সালোয়ার পড়েছে,, সালোয়ারের হাতা টা কবজি পর্যন্ত ঢাকা, ওরনা টা গলাই পেঁচিয়ে রাখা,,  চুল গুলো বিনুনি করা,,মুখ টা একটা কালো স্কার্ফ দিয়ে ঢাকা,, চোঁখে লাল-কালো চশমা পড়া,, কাঁধের একসাইডে কলেজ ব্যাগ,, যার ফলে কোয়েলের মুখ টা দেখা যাচ্ছে না,,তা দেখে চাঁপা ভ্রু কুঁচকে বললো

চাঁপা-- কোয়েল তুই!

কোয়েল-- হ্যা আমিই,,

--কোয়েলের কথায় দোলন বলে উঠল,,

দোলন-- কি উদ্ভদ হয়ে এসেছিস,, যেন মনে হচ্ছে তুই  মানুষ নোস,, কোন এলিয়েন,,

কোয়েল-- ইউ নো না,, যে কেন এমন হয়ে এসেছি,,

চাঁপা-- হ্যা সেটাই,, আচ্ছা তুই আর কতো এইভাবে চলবি বলতো,,

কোয়েল-- যতদিন না তোদের একটা কিউট জিজু আসছে ততদিন

দোলন-- তুই এইভাবে যদি এলিয়েন ভাবে চলাফেরা করিস তো কিউট ছেলে আর পাবি না,,

কোয়েল-- কিউট ছেলে পাই আর না পাই,, একটা শ্যামলা ঘোড়া পেলেই হলো,, আর আমি তো শুধু কলেজ আর টিউশনিতেই এইভাবে যায় অন্য কোথাও তো আর যাই না,,

চাঁপা-- আচ্ছা ওই মিশু গুন্ডার কি খবর বল তো,, দেড় বছর আগে যা মার টাই না তুই দিয়েছিলি,, 

কোয়েল-- দেবো না তো কি করবো বল,, রোজ রোজ জ্বালাতন করতো তাই তো সেদিন মেরেছিলাম,,এখন  গাধাটার কি খবর তা যানি না,,তবে এটা শুনেছি ওই গাধাটা নাকি নিজের চেয়ার হারিয়েছে,,

দোলন-- ঠিক হয়েছে শয়তান টার সাথে,,

চাঁপা-- গত তিন বছরে যা জ্বানিয়েছে না,, ওর জন্যই তো কাকু ট্রান্সফার নিয়ে বর্ধমান চলে এসেছে,, আর আমাদের ও লাভ হয়েছে,, এখন আমরা তিনজনেই একসাথে,,

দোলন--এই বাস চলে এসেছে,,এখন চল নাহলে প্রথম দিনই দেরি হয়ে যাবে,,

কোয়েল-- হ্যা হ্যা চল,,

-- বলেই ওরা তিনজন বাসে উঠে পড়ল,, প্রায় এক ঘন্টা পর কোয়েল রা কোলকাতা বাসস্টপে এসে নামলো,, ওরা আজকে বাসে করেই এসেছে কালকে থেকে ট্রেনে করে আসা যাওয়া করবে,, বাসস্টপ থেকে বেরিয়ে দশ মিনিট হাঁটলেই ওদের কলেজ পৌঁছে যাবে,, ওরা সোজা হাটা ধরলো,, প্রায় দশ মিনিট পর ওরা একটা বিশাল বড় গেইটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,, গেইটের উপরে লেখা,, "CALKATA ENGINEERING  COLLEGE & UNIVERSITY" (M.BA) কোলকাতার নামকরা কলেজ ও ইউনিভার্সিটি,, তার পাশাপাশি M.BA ও করা হয়,, চাঁপা এটা দেখে চিল্লিয়ে কোয়েল কে জড়িয়ে ধরে বললো

চাঁপা-- বান্ধবী,,,, ফাইনালি আমাদের স্বপ্ন পূরণ হলো,, ওহ মাই গড আমার তো বিশ্বাসী হচ্ছে না যে আমি এই কলেজ তে পড়বো,, উফফফ,,,

--চাঁপার কথায় দোলন আর কোয়েল তিন জনেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বললো

কোয়েল-- সত্যিই বান্ধবী আ'ম সো এক্সাইটেড,, আজ ফাইনালি আমাদের তিন জনের স্বপ্ন পূরণ হলো,,

দোলন-- উফ,, কি যে লাগছে না,, ওহ মাই গড,,

কোয়েল-- হয়েছে এবার ভেতরে চল,, এইখানে এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে সবাই আমাদের পাগল ভাববে,,

চাঁপা-- হ্যা হ্যা চল,,

-- তিনজনেরই কলেজের দিকে যেতে লাগলো,, গেইটের কাছে গিয়ে,, ওয়াচম্যান কে নিজেদের আইডি কার্ড দেখিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো,, বাইরে যতোটা সুন্দর ভেতরে তার থেকেও বেশি সুন্দর,, বড়ো এড়িয়া নিয়ে কলেজটা তৈরি,, বারো তলা বিল্ডিং,, মোট ছয় টা বিল্ডিং দাঁড় করানো আছে,,মধ্যে দিয়ে পিচ রাস্তা করা,, রাস্তার সাইড দিয়ে সুন্দর সুন্দর ফুল গাছ ও আর্টিফিশিয়াল ঘাস দিয়ে সাজানো,, ফিল্ডের মাঝ বরাবর একটা ফাউন্টেন আছে,, এক সাইডে ক্যান্টিন তার পাশেই বসার জন্য জায়গা,, একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ ও আছে তার চারিপাশে গোল করে সিমেন্ট দিয়ে বসার জায়গা করা আছে,, পুরো কলেজ দেখে তো তিন জনেই ফিদা,,, কোয়েল বলে উঠল

কোয়েল-- ওয়াও কতো সুন্দর লাগছে,,,

--কোয়েলের কথা শুনে চাঁপা বলে উঠল

চাঁপা-- সত্যিই খুব সুন্দর লাগছে,,,

--দোলন বলে উঠল

দোলন-- আমরা সত্যিই এই কলেজে পড়বো আসাই করিনি,,,

--দোলনের কথা শুনে কোয়েল বলে উঠল

কোয়েল-- তুই জানিস যখন জানতে পারলাম যে আমি এই কলেজে এডমিশন পেয়েছি তখন যে কি খুশি হয়েছিলাম,, আর যখন শুনলাম তোরা দুজনও পেয়েছিস,, তখন খুঁশিতে আমার লুঙ্গি ড্যান্স দিতে ইচ্ছে করছিল,, উফ

চাঁপা-- আমি তো খুশি তে কেঁদেই দিয়েছিলাম,, ওহ, মাই গড,, আ'ম সো এক্সাইটেড,,

দোলন-- হয়েছে এবার চল আমাদের ক্লাস রুম খুঁজতে হবে তো,,

-- তিন জনেই ক্লাস রুম খুঁজতে লাগল,, ক্লাস রুম খুঁজতে খুঁজতেই হঠাৎ একটা ক্লাস রুমের সামনে গিয়ে দেখলো কিছু ছেলে ও মেয়ে দাড়িয়ে আছে আর তাদের সামনেই দুজন ছেলে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে,, চাঁপা ওইদিকে তাকিয়ে বললো

চাঁপা-- এই কোয়েল ওই দেখ ওখানে মনে হয় raging হচ্ছে,,

-- চাঁপার কথায় কোয়েল ভ্রু কুঁচকে ওইদিকে তাকিয়ে দেখলো,, তারপর ভ্রু কুঁচকে বললো

কোয়েল-- চল তো ওখানে গিয়ে দেখি,,

-- কোয়েলের কথায় দোলন আঁতকে উঠে বললো

দোলন-- একদম না কোয়েল,, ভুলেও এইসবে তুই জড়াবিনা,, কাকু কাকিমনি কি বলেছে মনে নেই,

-- দোলনের কথায় কোয়েল ভ্রু কুঁচকে বললো

কোয়েল-- তাই বলে অন্যায় কে প্রশ্রয় দিবো,,

দোলন-- প্লিজ কোয়েল এমন কিছু করবি না,,

--ওদের কথার মাঝেই কেও এসে কোয়েলের চোখ চেপে ধরলো,, আচমকা এমন হওয়ায় কোয়েল প্রথমে ভড়কে গেলো,,

-- বল তো আমি কে

--মেয়েটার কথা শুনে কোয়েলের ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে উঠল,,

কোয়েল-- কবিতা দি,, (হাঁসি নিয়ে)

-- বলেই কোয়েল হাত ধরে কবিতাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো,, তারপর জড়িয়ে ধরে বললো

কোয়েল-- তুমি এখানে,,

কবিতা-- হ্যা সিস্টার আমিই,, (ছেড়ে দিয়ে) কেমন আছিস তোরা দোলন-চাঁপা তোরা কেমন আছিস,,

চাঁপা-- এইতো কবিতা দি, ভালো আছি তুমি কেমন আছো

কবিতা-- আমি বিন্দাস আছি,

কোয়েল-- আচ্ছা তুমি আমাকে চিনলে কি করে,,

কবিতা-- প্রথমত আয়ুশ আমাকে তোর আজকের লুক এর একটা ফটো দিয়েছিল,, আর আমি তো দোলন-চাঁপা কে চিনিই,, তাই আর অসুবিধা হয়নি,,

কোয়েল-- ওয়াও দ্যাট্স গ্ৰেট,, তাহলে তো হয়েই গেলো,, আচ্ছা তাহলে আমাদের হেল্প করো ক্লাস রুম খুঁজতে,,

কবিতা-- তোরা এখনো ক্লাস রুম খুঁজেই পাশনি,, আচ্ছা চল আমি খুঁজে দিচ্ছি,,

-- কবিতা ওদের নিয়ে তিন নং বিল্ডিং এর থার্ড ফ্লোরে নিয়ে গেলো,, তারপর একটা ক্লাস রুমে নিয়ে গেল

কবিতা-- এটা হচ্ছে তোদের ক্লাসরুম,, আর যদি কোন প্রবলেম হয় তাহলে আমি তো আছিই,, আচ্ছা এখন নিচে চল,, তোদের ক্লাস তো মনে হয় শুরু হতে অনেক সময় লাগবে,, তাহলে চল এখন নিচে যায় তোকে সব জায়গা ঘুরিয়ে দেখিয়ে আসি,,আর আমার বন্ধু দের সাথেও পরিচয় করিয়ে দিবো,, 

কোয়েল--আচ্ছা চলো

--ওরা চারজন আবার নিচে চলে যায়,, তারপর একে একে সব দেখতে লাগলো,, তারপর কবিতা ওদের নিয়ে ওর ফ্রেন্ডস দের কাছে নিয়ে যেতে লাগলো,, ওখানে গিয়ে দেখলো,, দুটো ছেলে আর দুটো মেয়ে দাড়িয়ে আছে কবিতা ওদের কাছে গিয়ে বললো

কবিতা-- এই তোরা এখানে কি করছিস,

-- ওরা সবাই ঘুরে দাঁড়ালো

রিমি -- হুম বল কবি

রিক-- এরা কে রে কবি,,

কবিতা-- মিট মাই সিস্টার কোয়েল,, তোরা তো ওকে আগে থেকেই চিনিস,, আর এরা হচ্ছে দোলন আর চাঁপা কোয়েলের ফ্রেন্ড,, (দোলন-চাঁপা কে দেখিয়ে)আর কোয়েল এরা হচ্ছে আমার বেস্টু রা, রিমি,প্রিয়া,সায়ক, রিক, ওদের মধ্যে থেকে প্রিয়া নামের মেয়েটা বলে উঠল

প্রিয়া-- এই কবি এটাই কি তোর ওই কিউট বোন টা,,

কবিতা--হুম

--কবিতার কথায় রিমি নামের মেয়েটা বলে উঠল

রিমি-- কেমন আছিস কোয়েল

কোয়েল--‌ আমি ভালো আছি তোমরা কেমন আছো

রিমি-- আমরাও ভালো আছি,,

কবিতা-- আচ্ছা শোন,, ওরা এই কলেজে নতুন তাই অতো কিছু চেনে না,, সো তোদের দায়িত্ব ওদের দেখে রাখা

--কবিতার কথা শুনে সায়ক বলে উঠল

সায়ক-- অবস্যয়,, আমরা তো আছিই,, আচ্ছা তোমাদের কোন প্রবলেম হলে আমাদের বলবে কেমন

কোয়েল-- আচ্ছা,,

-- ওরা নানা রকম কথা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেলো,, ওদের কথার মাঝেই দোলন বলে উঠল

চাঁপা-- আচ্ছা কবিতা দিই,, একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো

কবিতা-- হুম কর?

চাঁপা-- তুমি তো মনে হয় তিন বছর হলো এই ভার্সিটি তে পড়ো,,

কবিতা-- হুম,,

চাঁপা-- কিছুক্ষন আগে দেখলাম এখানে কয়েকটা ছেলে আর মেয়ে মিলে দুজন ছেলে কে ragging করছে, ওরা কারা

প্রিয়া-- ওরা হচ্ছে এই কলেজের সিনিয়র দাদা দিদি রা,, আর ওদের লিডার হচ্ছে শুভ্র আর শুভ্রর সো কল্ড জিএফ  লিজা,,

দোলন-- আচ্ছা তুমি বুঝলে কি করে যে আমরা ওদের কথায় বলছি,,

--রিমি বলে উঠল

রিমি-- এখানে বলার কিছু নেই,, আমাদের ভার্সিটি তে শুধু ওরাই আছে যারা ‌এইসব কাজ করে,, শুভ্র, শুভ্রর ফ্রেন্ড আকাশ আর অর্ক আর শুভ্রর গার্লফ্রেন্ড লিজা আর ওর দুই চ্যালা অ্যানা আর নাতাশা,, এরা এই কয়েকজনই আছে যারা এই ভার্সিটিতে নিজেদের দাদাগিরি ফলাই,,

--ওদের কথার মাঝেই কোয়েল বলে উঠল

কোয়েল-- ওরা যে এইসব করছে,, ওদের কেউ কিছু বলে না,,

--কোয়েলের কথায় প্রিয়া মুচকি হেসে বলল

প্রিয়া-- কে কি বলবে বল,, শুভ্রর বাবা হচ্ছেন এই কলেজের ওনার,, ওর বাবার টাকাই এই কলেজ টা চলে,, তাই ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না,, আর শুভ্র মেয়েদের কে কিছু বলে না,, আর ভার্সিটির সব মেয়েরাও তো  শুভ্র বলতে পাগল,,

কোয়েল-- তুমি কি করে বুঝলে যে ওই ছেলেটা মেয়েদের কিছু বলে না

প্রিয়া-- আজ পর্যন্ত তো দেখিনি,,

রিমি--তবে তোরা যতো পারবি ওদের থেকে দূরে দূরে থাকবি

-- রিমির কথায় দোলন বলে উঠল,,

দোলন-- রিমি দি তুমি কোয়েল কে বলো,, যেন ওদের সাথে লাগতে না যায়,, 

-- দোলনের কথায় কবিতা সন্ধিহান চোখে কোয়েলের দিকে তাকিয়ে বললো

কবিতা-- এই কোয়েল তোকে মামাই বারন করে নি,, যে এইসব ঝামেলাই না পড়তে তাও আবার তুই,, মামাই শুনলে কিন্তু রেগে যাবে,,

কোয়েল-- তো কি করবো,, আমি তো দেখলাম ওরা সবাই দুটো ছেলেকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছে,, তাই তো আমি,,

রিমি-- একদম ওদের কোন কিছুতে ইন্টারফেয়ার করবি না,, ওরা কিন্তু মোটেও ভালো নয়,,

কবিতা-- কোয়েল বোন আমার,, তুই শুভ্র আর ওর জিএফ এর থেকে দূরে থাকিস,,

কোয়েল-- কেন বলোতো,,

প্রিয়া-- আরে শুভ্রর গার্লফ্রেন্ড তো একটা সাইকো,, কেউ যদি শুভ্র কে কিছু বলে তো শুভ্রর গার্লফ্রেন্ড ওকে সবার সামনে,,, বুঝতেই পারছিস কি বলতে চাইছি,,

কোয়েল-- বড়োলোক বাবার বিগড়ে যাওয়া ছেলে মেয়ে (বিড়বিড় করে)

--কোয়েলের বিড়বিড় করে কথা বলাটা চাঁপা বুঝতে পেরে বললো

চাঁপা-- তোমরা কিন্তু কোয়েল কে সাবধান করো,, ও কিন্তু আবার কোন একটা কান্ড ঘটাবে,,

-- চাঁপার কথায় কোয়েল তেঁতে উঠে বললো

কোয়েল-- কি বললি তুই আবার বল তো,, বেয়াদপ মেয়ে কোথাকার,,

কবিতা-- ঠিকই তো বলেছে,, শোন কোয়েল এটা কিন্তু মধুপুর নয়,, এটা কোলকাতা,, সো বি কেয়ারফুল,, নাহলে কিন্তু আমি মামাই কে বলতে বাধ্য হবো,,

-- কবিতার কথা শুনে কোয়েল ভয়ে ভয়ে বলে উঠল,,

কোয়েল-- আআ-আচ্ছা আচ্ছা,, আমি কোন গন্ডগোল করবো না,, প্লিজ তুমি বাপি কে কিছু বলো না,,

কবিতা-- আচ্ছা ঠিক আছে যা বলবো না,, এখন তোরা ক্লাসে যা,,

কোয়েল-- আচ্ছা,,

দোলন-- আচ্ছা,, দাদা দিদি রা,, আমরা তাহলে আসি,

সবাই-- আচ্ছা যাও,,

-- কোয়েল রা কবিতা দের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলো,,

ক্রমশঃ

                              Koel Sen

কলেজের লুক

আমার গল্প হয়তো অনেক জায়গায় বানান‌ ভুল আছে,, আবার এক লেখার জায়গায় উল্টো লেখাও আছে,, দয়া করে কেও কিছু মনে করবেন না,, টাইপিং মিসটেক এর জন্য হয়েছে, আমি গল্প লেখার পরে আর রিচেক করি না,,

Write a comment ...

Write a comment ...